স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক নভেম্বর ১ : ২০২৩ সালে গোষ্ঠী সংঘাতের আগুনে পুড়েছিল মণিপুর । বছরতিনেক পর আবারও জ্বলছে উত্তরপূর্বের রাজ্যটি। গত কয়েকদিন ধরেই সেখানে হিংসা ছড়াচ্ছে। জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে মণিপুরে হিংসার বলি অন্তত তিন। প্রাথমিকভাবে অনুমান, নাগা গোষ্ঠীর সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে হত হয়েছেন কুকি জো সম্প্রদায়ের তিনজন।
শনিবারই মণিপুরের রাজধানী ইম্ফলে বিরাট মিছিল করেছিল মেতেই এবং নাগা সম্প্রদায়। তাদের অভিযোগ, কুকি জো সম্প্রদায়কে ব্যবহার করে রাজ্যে ছায়াযুদ্ধ চালাচ্ছে কেন্দ্র সরকার। ওই বিরাট মিছিলের জেরে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে যায় ইম্ফল। তবে এই হিংসার ঘটনাটি ঘটেছে মিছিলের কয়েকঘন্টা আগে। জানা গিয়েছে, শনিবার সকাল ৯টা নাগাদ নাগা অধ্যুষিত রংমেই জেলার তাজেইকাইফুন গ্রামে। নাগাদের গুলিতেই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে খবর।
কুকিদের সংগঠন কুকি ইনপি মণিপুরের তোপ, কুকি অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা দিচ্ছে না সরকার। কোনওরকম উসকানি না থাকা সত্ত্বেও নাগা হামলা চলছে কুকিদের উপর। সংগঠনের অভিযোগ, ইচ্ছাকৃতভাবে নিরাপত্তা দিচ্ছে না সরকার। কুকিদের উপর পরিকল্পিতভাবে নির্যাতন চলছে।
উল্লেখ্য, দিনকয়েক আগে দুষ্কৃতীদের গুলিতে দুই গ্রামবাসীর মৃত্যুতে উত্তাল হয় ইম্ফল। ইম্ফল ইস্ট ও কাংপোকপি জেলার সীমান্তে খোংবাল সুনুরোক উয়োক এলাকায় সম্প্রতি জঙ্গলে কাঠ কুড়োতে গিয়েছিলেন ১৬ জন গ্রামবাসী। তখনই পাহাড় থেকে নেমে এসে তাঁদের উপর এলোপাথাড়ি গুলি চালায় সশস্ত্র জঙ্গিরা। এই ঘটনায় দু’জনের মৃত্যু হয়। তারপর পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর আকার নেয় যে, প্রতিবাদ স্বরূপ খোদ মুখ্যমন্ত্রীর বাংলোর গেটের সামনে মৃতদেহ ফেলে যায় ক্ষুব্ধ জনতা। এই ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যাপক বাড়ানো হয় মুখ্যমন্ত্রীর বাংলোর।
রাজ্যে নতুন করে হিংসা ছড়াতেই মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচাঁদ সিং সোজা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বারস্থ হয়েছেন। সূত্রের খবর, রাজ্যে শান্তি ফেরাতে সবরকমভাবে মণিপুর সরকারকে সাহায্য করার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তবে তাতেও হিংসা থামছে না।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান