স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৩১ আগস্ট : পুলিশের সদর কার্যালয়ের এক কিলোমিটারের মধ্যে ভয়াবহ দুর্ঘটনা সংঘটিত হলো রাজধানীর আখাউড়া রোডের ওয়েস্টার্ন ক্লাব সংলগ্ন এলাকায়। এই দুর্ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ত্রিপুরা পুলিশের এসপি কিশান কুমারের মেয়ে বলে দাবি প্রত্যক্ষদর্শীদের। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, সোমবার সকাল সাড়ে নয়টার নাগাদ এসপি কিশান কুমারের মেয়ে টিআর ০১ সি.এল ০২৯৭ নম্বরের গাড়ি দিয়ে ড্রাইভিং শেখছিলেন এক টি এস আর জওয়ান দ্বারা। কিন্তু গাড়ির শেখার আগে অতি উৎসাহে গাড়ির গতি বাড়িয়ে একটি টমটমকে ধাক্কা দিয়ে প্রায় ১০০ মিটার পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায় এসপি-র মেয়ের গাড়ি। ঘটনায় তিনজন গুরুতর আহত হয়।
আহত
তিনজন হলেন টমটম চালক এবং বাকি দুজন যাত্রী। ঘটনা প্রত্যক্ষ করতেই স্থানীয়রা ছুটে এসে পুলিশকে খবর দেয়। এদিকে দমকল কর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে জিবি হাসপাতালে নিয়ে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর মহিলা পুলিশ
কনস্টেবল মন্দিরা পাল অভিযুক্ত এসপির মেয়েকে বাঁচাতে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে অন্যথায় নিয়ে যায়। তখন পরিস্থিতি উত্তেজিত হয়ে উঠে। স্থানীয়রা টের পেয়ে যায় "ডাল মে কুচ কালা
হে।" তখন এলাকাবাসী পুলিশের গাড়ি ঘিরে ফেলে। পুলিশ তখন এলাকাবাসীর রক্ত চক্ষু দেখে বেসামাল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সহ চালককে আটক
করে। তখন উত্তেজিত জনতা পুলিশের সামনেই সহ চালক তথা
টিএসআর জওয়ানকে গণধোলাই দেয়। পুলিশের সামনেই সহচালকের নাম জানতে চাওয়া হয়। সহচালকের নাম সন্দীপ কুমার।
ত্রিপুরা স্টেট রাইফেলসের তৃতীয় ব্যাটেলিয়ানের জওয়ান। বর্তমানে তার পোস্টিং এডি নগরে। তার বাড়ি হরিয়ানায়। উত্তেজিত জনতার হাত থেকে এসপি-র মেয়েকে এবং সচালককে বাঁচানোর জন্য ঘটনাস্থলে তড়িঘড়ি পৌঁছায় পশ্চিম আগরতলা থানার ওসি এবং সদর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক। কিন্তু, এলাকাবাসী সড়ক অবরোধ করে দাবি তোলেন এই ঘটনার জন্য মূল দায়ী এসপি সাহেবের মেয়ে। কারণ গাড়িটি চালিয়েছিলেন এসপি-র মেয়ে। তাকে যতক্ষণ না গ্রেফতার করা হবে ততক্ষণ অবরোধ প্রত্যাহার করবে না এলাকাবাসী। পুলিশ আধিকারিকরা উত্তেজিত জনতাকে আশ্বস্ত করেন যে সিসি ক্যামেরার রেকর্ড নিয়ে পুলিশ অভিযুক্তকে জালে তুলবে। এলাকাবাসী কিংবা পরিবারের লোকজনেরা যদি মামলা নাও করে পুলিশ নিজে থেকে মামলা গ্রহন করবে। তারপরেও এলাকাবাসী মানতে না চাওয়ায় শেষ পর্যন্ত মেয়েটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। তারপর অবরোধ প্রত্যাহার করে জনতা। কিন্তু জনতার দাবি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির জন্য সঠিকভাবে ধারা দিতে হবে। এসপি-র মেয়ে বলে পার পাইয়ে দেওয়া চিন্তা করলে ভুল হবে। কারণ এই ঘটনা সম্পূর্ণভাবে গাফিলতির কারণে হয়েছে। বিশেষ করে যেহেতু রাস্তাটি একটি ব্যস্ততম রাস্তা, কোনভাবেই অফিস আওয়ারে রাস্তাটির মধ্যে গাড়ি শেখানো ঠিক হয়নি। এমনকি এসপি সাহেবের মেয়ের গাড়ির মধ্যে লেখা ছিল গভমেন্ট অব ত্রিপুরা, ট্রান্সপোর্ট ডিপার্টমেন্ট। এদিকে আহতরা হলেন সঞ্জীব সরকার, বাড়ি দক্ষিণ জয়নগর এবং আয়েশা বেগম, বাড়ি ইছাবাজার এলাকায়। বাকি আরো একজন মহিলা রয়েছেন। তার নাম জানা যায়নি কারণ তিনি গুরুতর আহত। সঞ্জীব সরকার ছিলেন টমটম চালক। তার দুই পা এবং এক হাত ভেঙে গেছে।
তারা
জানান গাড়িটি অতিরিক্ত দ্রুত বেগে আসার কারণে এই ঘটনা সংঘটিত
হয়েছে। এদিকে গুঞ্জন উঠেছে রাজ্য পুলিশ ও টি.এস.আর -এর একাধিক আধিকারিক
এভাবে দেহরক্ষী এবং গাড়ি চালকদের অপব্যবহার করছেন। বাড়িতে ও নিজ আবাসনের
বাজারহাট, রান্নার কাজ, কাপড় ধোয়া, ছেলে মেয়েদের স্কুল থেকে আনা নেওয়া এবং তাদের গাড়ি শেখানো সহ শৌচালয় পর্যন্ত
পরিষ্কার করানোর কাজে নিয়োজিত রেখেছেন। যেখানে দেহরক্ষী হিসেবে দায়িত্ব পালন করার কথা এবং মানুষের নিরাপত্তা দেওয়ার কথা সেখানে জওয়ানদের দ্বারা ব্যক্তিগত কাজ করানো হচ্ছে। রাজ্যের একটা গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর হল স্বরাষ্ট্র দপ্তর।
এই দপ্তরের আধিকারিকরা এভাবে বছরের পর বছর বেআইনিভাবে
ব্যবহার করছেন দেহরক্ষী ও গাড়ি চালকদের।
এর কোন সঠিক তদন্ত নেই। সরকার পরিবর্তন হলেও চলছে আধিকারিকদের মধ্যে চলছে সেই পূর্বতন মানসিকতা। যা নিয়ে ছিঃ
ছিঃ রব উঠে।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান