স্যন্দন
ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৯ আগস্ট ; প্রায় তিন মাস ধরে ত্রিপুরায় পাথর প্রবেশে কার্যত অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এর জেরে উত্তর
ত্রিপুরার বৃহত্তর ধর্মনগর মহকুমায় একের পর এক ছোট-বড় ক্রেশার বন্ধ
হওয়ার মুখে। পাথরের জোগান ব্যাহত হওয়ায় থমকে পড়েছে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজও। একই সঙ্গে কর্মহীন হয়ে পড়ছেন হাজার হাজার শ্রমিক, গাড়িচালক ও পরিবহন ব্যবসার
সঙ্গে যুক্ত মানুষ। এর সরাসরি প্রভাব
পড়েছে স্থানীয় বাজার ও দোকানপাটেও। ফলে
গোটা মহকুমাজুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের আশঙ্কা।
বিশেষ করে চুরাইবাড়ি এলাকায় পাথর ব্যবসার উপর নির্ভরশীল অসংখ্য পরিবার। তাদের দাবি, এলাকায় পাথর ব্যবসা ছাড়া বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগও অত্যন্ত সীমিত। অনেকেই ব্যাংক থেকে ঋণ, কিংবা কিস্তিতে গাড়ি কিনে মেঘালয় থেকে বোল্ডার এনে চুরাইবাড়িতে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে পাথর পরিবহন বন্ধ থাকায় তাঁদের আয়-রোজগার কার্যত থমকে গেছে। নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় অনেকের গাড়ি ফাইন্যান্স সংস্থাগুলি নিয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে রবিবার ত্রিপুরা বোল্ডার মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মিলন দেবনাথের বাসভবনে পাথর ব্যবসায়ী, শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধি, গাড়ির মালিক, চালক ও ক্রেশার মালিকদের নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মেঘালয় থেকে বৈধ কাগজপত্রসহ আন্ডারলোড পাথর নিয়ে ত্রিপুরায় প্রবেশের পথে বরাক উপত্যকার প্রবেশদ্বার দিগরখাল গেটে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। বৈধ নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও পাথরবোঝাই বহু গাড়ি সেখানে আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
কেন
বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও গাড়িগুলিকে আটকে রাখা হচ্ছে, তা নিয়ে ক্ষোভ
ও সংশয় প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, পাথর সরবরাহ বন্ধ থাকায় শুধু ব্যবসায়ীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন না, এর প্রভাব পড়ছে
ত্রিপুরার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও। নির্মাণ কাজে প্রয়োজনীয় পাথরের জোগান না থাকায় বিভিন্ন
প্রকল্পের কাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবহন, শ্রমিক, ক্রেশার এবং ছোট-বড় ব্যবসার সঙ্গে
যুক্ত হাজার হাজার মানুষের জীবিকা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।এদিন বৈঠক থেকে ত্রিপুরা ও অসম সরকারের
কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জানানো হয়। ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, দিগরখাল গেটের জটিলতা দ্রুত নিরসন করে বৈধ কাগজপত্র সহ পাথরবাহী গাড়ি
চলাচলের পথ স্বাভাবিক করতে
হবে। অন্যথায় পাথর ব্যবসার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত
হাজার হাজার মানুষ পথে নামতে বাধ্য হবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। এদিকে অসম থেকে রিভার স্টোন ত্রিপুরায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রেও পরিবহনকারীদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ। ব্যবসায়ীদের দাবি, বর্ষাকালে নদী থেকে তোলা পাথরে জল থাকার কারণে
গাড়ির ওজন কিছুটা বেড়ে যায়। সেই অতিরিক্ত ওজনকে কেন্দ্র করে চুরাইবাড়ি এমভিআই গেটে একটি গাড়িকে প্রায় ২২ হাজার টাকা
পর্যন্ত জরিমানা দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁদের। অথচ একটি গাড়ি পাথর বিক্রি করে ব্যবসায়ীদের মুনাফা থাকে মাত্র এক থেকে দেড়
হাজার টাকা। ফলে এই ধরনের জরিমানায়
ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। ব্যবসায়ী মহলের আশঙ্কা, দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে শুধু
চুরাইবাড়ি বা ধর্মনগর নয়,
গোটা উত্তর ত্রিপুরা জেলাজুড়ে এর ব্যাপক অর্থনৈতিক
প্রভাব পড়তে পারে। এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বোল্ডার মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মিলন দেবনাথ, সম্পাদক রূপক দেবনাথ সহ অন্যান্যরা।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান