স্যন্দন
ডিজিটাল
ডেস্ক,
আগরতলা।
২৫ আগস্ট :বিশালগড়ে ব্যাঙের
ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে একাধিক মাইক্রো ফাইনান্স কোম্পানি। মঙ্গলবার সকালে নিদ্রা ভাঙলো
মহকুমা প্রশাসনের। তারপর অভিযান চালানো হয় আশীর্বাদ মাইক্রো ফাইন্যান্সে। কিন্তু অভিযানে
গিয়ে চাক্ষস করেন ব্যাপক অনিয়ম। জানা যায় কোনরকম কাগজপত্র ছাড়াই বিশালগড় মহকুমার
বিভিন্ন এলাকায় আনাচে-কানাচে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন নামি বেনামী মাইক্রো ফাইন্যান্স কোম্পানি।
তারা প্রথমে দরিদ্র সীমায় বসবাসকারী পরিবারগুলিকে চিহ্নিত করে তাদেরকে চড়া সুদে টাকা
দেন।
তাদের ঋণ পরিশোধ
করতে না পেরে অনেক সময় একাধিক পরিবার ঋণের চাপে আত্মহত্যা করেছে। এই সমস্ত মাইক্রো
ফাইন্যান্স কোম্পানি গুলি সরকারের যে সমস্ত কাগজপত্রের উপর ভিত্তি করে গড়ে তুলতে হয়
সে সমস্ত কিছু না মেনেই বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে এ মাইক্রো ফাইন্যান্স কোম্পানি।
গ্রাহকদের পকেট কাটার অভিযোগ পেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে বিশালগড় আমবাগান স্থিত আশীর্বাদ
মাইক্রো ফাইন্যান্স কোম্পানিতে হানা দেয় ডিসিএম প্রসেনজিৎ দাস সহ মহকুমা প্রশাসনের
একাধিক আধিকারিকরা। হানা দেওয়ার সাথেই একাধিক কর্মীরা সেখান থেকে চলে যায় কোনরকম
কাগজ দেখাতে পারেনি ফাইন্যান্স কোম্পানির লোকেরা।
তখন মহকুমা
প্রশাসন সমস্ত নিয়ম না মেনে গড়ে উঠা এই অবৈধ মাইক্রো ফাইন্যান্স কোম্পানিতে তালা
লাগিয়ে দেয়। ডিসিএম জানান, দীর্ঘদিন এই মাইক্রো ফাইন্যান্স কোম্পানিটি বিশালগড় নিচের
বাজার এলাকায় ছিল। কিছুদিন আগে আম বাগান এলাকায় নিয়ে আসে। তাদের কাছে নোটিশ দিয়ে
বলা হয়েছিল তারা যেন ট্রেড লাইসেন্স জমা দেয় দপ্তরে। কিন্তু প্রশাসনিক নিয়ম লঙ্ঘন
করে দীর্ঘ সাত বছর ধরে ব্যবসা করে আসছে আশীর্বাদ মাইক্রো ফাইন্যান্স কোম্পানি। এমনকি
এই কোম্পানি আরো একটা কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করছে বলে দাবি করে। সেই কোম্পানির
কাগজ পর্যন্ত দেখাতে পারেনি। তাই তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয় আশীর্বাদ মাইক্রো ফাইন্যান্স
কোম্পানিতে। পরবর্তী সময় তারা ট্রেড লাইসেন্স করার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে তালা খুলে
দেওয়া হবে কিনা সে বিষয়ে চিন্তাভাবনা করা হবে। তবে শুধুমাত্র আশীর্বাদ মাইক্রো ফাইন্যান্স
নয়, সারা রাজ্যে এভাবে প্রশাসনিক নিয়ম লঙ্ঘন করে ব্যবসা করে চলেছে বহু মাইক্রো ফাইনান্স
কোম্পানি। উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না এই মাইক্রোফিনান্স কোম্পানিগুলির বিরুদ্ধে।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান