Tuesday, August 18, 2026
বাড়ি রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে চুরির ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিল আদালত

পুলিশের বিরুদ্ধে চুরির ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিল আদালত

পুলিশের বিরুদ্ধে চুরির ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিল আদালত

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৮ আগস্ট :  কলঙ্কিত রাষ্ট্রপতি কালার্স প্রাপ্ত ত্রিপুরা পুলিশ। যে পুলিশ নিয়ে একসময় ত্রিপুরার মানুষ গর্ব করত, সেই পুলিশ আজ দিকে দিকে কলঙ্কিত। পূর্ব আগরতলা থানা, এয়ারপোর্ট থানার পর এইবার গুরুতর অভিযোগ উঠল বিশালগড় থানার পুলিশের বিরুদ্ধে। মামলা দায়ের উচ্চ আদালতে। অভিযোগকারির পক্ষে উচ্চ আদালতে সাওয়াল করেন আইনজীবী শঙ্কর লোধ। তিনি জানান সোনামুড়া এলাকার বাসিন্দা বিল্লার মিয়ার এক ভাই গুরুতর অসুস্থ। ভাইয়ের চিকিৎসার টাকার জন্য পরিবারের সকলের স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে বিক্রয়ের জন্য তিনি গাড়ি নিয়ে আগরতলার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।

বিশালগড় কলেজ রোডের মুখে বিল্লাল মিয়ার গাড়ি আটক করে বিশালগড় থানার পুলিশ। তারপর তাদেরকে গাড়ি সহ নিয়ে যাওয়া হয় চা বাগানে। সেখানে বেশকিছু সময় তাদেরকে দাড় করিয়ে রাখার পর বিশালগড় থানায় নিয়ে যায়। এবং তাদের সাথে থাকা কেজি ৭৮০ গ্রাম স্বর্ণ বিশালগড় থানার পুলিশ চুরি করে নিয়ে যায়। ২১ ফেব্রুয়ারি এই ঘটনা ঘটে। ২৬ ফেব্রুয়ারি বিল্লাল মিয়া সোনামুড়া থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা গ্রহনে অস্বীকার করে। তারপর অভিযোগ পত্রের প্রতিলিপি ২৮ ফেব্রুয়ারি সিপাহীজলা জেলার পুলিশ সুপারের নিকট প্রেরন করা হয়। জেলা পুলিশ সুপার সেই অভিযোগ পত্র রিসিভ করেন মার্চ। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোন মামলা নথিভুক্ত করা হয় নি।

 তারপর ১৮ মার্চ উচ্চ আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। উচ্চ আদালতে মামলা দায়ের করার পর জেলা পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপারকে দিয়ে ঘটনার তদন্তের একটি রিপোর্ট প্রদান করা হয়। দেখা যায় বিল্লাল মিয়ার গাড়ি বিশালগড় থানায় নিয়ে যাওয়ার পর একজন পুলিশ অফিসার দুইবার গাড়িটির ভিতরে প্রবেশ করেছে। থানায় বিল্লাল মিয়া থাকার পরও তাদেরকে ডাকা হয় নি। উচ্চ আদালতের ডিভিশন বেঞ্চ এইদিন নির্দেশ দিয়েছে বিল্লাল মিয়ার অভিযোগ নথিভুক্ত করে ক্রাইম ব্রাঞ্চের একজন সিনিয়র অফিসারকে দিয়ে ঘটনার তদন্ত করার জন্য। অভিযোগ কারির আইনজীবী শঙ্কর লোধ এইদিন ঘটনার তদন্ত কতটা সঠিক হবে তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। কারন এই মামলায় চোর হচ্ছে পুলিশ। আবার ক্রাইম ব্রাঞ্চে যারা রয়েছে তারাও রাজ্য পুলিশের অফিসার। স্বাভাবিক ভাবেই পুলিশ পুলিসকে বাঁচানোর চেষ্টা করবে। এখন দেখার ক্রাইম ব্রাঞ্চ নিরপেক্ষতা বজায় রেখে এই মামলার সঠিক তদন্ত করে কিনা।

Abhishek Dey
সাংবাদিক (Journalist)

মন্তব্য সমূহ (0)

  • এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

আপনার মতামত জানান

Captcha