Monday, August 17, 2026
বাড়ি রাজ্য কালবৈশাখী ঝড়ে লন্ডভন্ড সাব্রুম, জুলাইবাড়ি, বিশালগড় এবং বামুটিয়া

কালবৈশাখী ঝড়ে লন্ডভন্ড সাব্রুম, জুলাইবাড়ি, বিশালগড় এবং বামুটিয়া

কালবৈশাখী ঝড়ে লন্ডভন্ড সাব্রুম, জুলাইবাড়ি, বিশালগড় এবং বামুটিয়া

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৮ এপ্রিল : মঙ্গলবার সকাল থেকে ভারী বর্ষণ সহ কালবৈশাখী ঝড়ে সাতচাদঁ, সাব্রুম, কলাছড়ার বিভিন্ন গ্রামে গাছ পড়ে ঘরবাড়ি রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বন্ধ হয়ে যায় এলাকার বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল। শহরের অধিকাংশ রাস্তাঘাট মুহূর্তে গাছ পড়ে বন্ধ যায়। বিপাকে পড়ে সাধারন জনগন। এদিকে তীব্র ঝড়ে কলাছড়া সাব্রুম -আগরতলা সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছপালা ভেঙে পড়ে।

এতে যান চলাচল ব্যাহত হয়। অপরদিকে কলাছড়া বাজারে স্কুল এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি, গাছপালা, দোকানঘর ভেঙে গেছে।কলাছড়া  বাজারে দাড়ািয়ে থাকা দুইটি গাড়ীতে গাছ ভেঙে পড়ে ক্ষতিগস্থ হয়। বৈদ্যুতিক খুঁটি ও গাছপালা বিধ্বস্ত হয়েছে। ঝড় বৃষ্টি কিছুটা কমার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় থানা, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী উদ্ধার কাজে নামে। জোলাইবাড়ী অন্তর্গত উত্তর জোলাইবাড়ি এলাকায় মঙ্গলবার সকালে কালবৈশাখী ঝড়ের এবং শিলা বৃষ্টির তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির হয়েছে। কয়েকটি পরিবারে শিলা বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই অভিযোগ মিঠুন বণিকের  পরিবারে। তিনি বলেন আছড়ে পড়া ঝড়ে বিভিন্ন এলাকায় গাছ উপড়ে পড়ে বাড়িঘর, রাস্তা এবং যানবাহনের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কোথাও বাড়ির উপর গাছ ভেঙে পড়েছে। আবার কোথাও রাস্তাঘাট সম্পূর্ণভাবে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। ঝড়ের দাপটে বহু জায়গায় বিদ্যুতের খুঁটি ও তারের উপর গাছ পড়ায় বিদ্যুৎ পরিষেবা সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিম পিলাক কলনি বাজার এলাকায় পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে আচমকাই একটি বড় গাছ ভেঙে পড়ে। এতে একটি গড় ভেঙ্গে যায় এবং সম্পূর্ণভাবে দুমড়ে-মুচড়ে যায় গড়। সৌভাগ্যবশত বড় ধরনের প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি, তবে ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার মিঠুন বণিক জানান দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও শান্তিরবাজার মহকুমা শাসকের দপ্তর থেকে ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট টিমকে খবর দেওয়া হয় এবং ঘটনাস্থলে এখনও পৌঁছেনি। পরে জোলাইবাড়ী এলাকার লোকজন ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পাশাপাশি খবর পেয়ে জোলাইবাড়ী বিদ্যুৎ দপ্তর  দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এবং একটি পরিবার মিঠুন বণিক দাবি করেন যে উনার বাড়ি  শিলা বৃষ্টিতে ঘরের টিন ছিদ্র হয়ে যায়। তাই  কিছু আর্থিক সাহায্য করার জন্য জোলাইবাড়ি পঞ্চায়েত সমিতি ও শান্তির বাজার মহকুমার শাসক কাছে দাবি করেন। যদিও তিনি আরও জানান মিঠুন বণিক প্রশাসনের পক্ষ থেকে ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট টিমকে খবর দেওয়া হয়েছিল, তবে তারা নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হতে পারেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফেরাতে জোরকদমে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বিদ্যুৎ নিগম ও এলাকার জনগণ এবং পুলিশ প্রশাসন। কিন্তু দেখার বিষয় দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার শাসক কতটুকু দেখবেন এই বিষয় জোলাইবাড়ি উওর গ্ৰাম বাসিন্দা  তা দেখার বিষয়। মঙ্গলবার সকালের বৃষ্টিতেই চরম ভোগান্তির ছবি ধরা পড়ল বামুটিয়া বিধানসভার পূর্ব গান্ধীগ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। ঘন্টাখানেকের বৃষ্টিতেই জল জমে কার্যত জলমগ্ন হয়ে পড়ে গোটা এলাকা। বিপাকে পড়েন সাধারণ মানুষ। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার জল নিষ্কাশনের একমাত্র পথটি পঞ্চায়েত প্রধান জানকি বিশ্বাস মাটি ফেলে বন্ধ করে দিয়েছেন। যদিও দাবি করা হচ্ছে জমিটি ব্যক্তিগত, কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে বিকল্প জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করে কীভাবে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। অভিযোগ আরও গুরুতর—জল জমে পরিস্থিতি ভয়াবহ হওয়ার পরেও ঘটনাস্থলে দেখা মেলেনি প্রধান জানকি বিশ্বাসের। ফলে ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকাবাসী। আরো অভিযোগ পূর্ব গান্ধিগ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বরাবর নিজের মর্জি মাফিক কাজ করে চলেছেন। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে রাজ্যের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং বামুটিয়ার নেতৃত্ব বিষয়টির দিকে নজর দিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। তবে কালবৈশাখীর তান্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিশালগড়। ভেঙে পড়েছে বহু বিশাল আকৃতির গাছ।

Abhishek Dey
সাংবাদিক (Journalist)

মন্তব্য সমূহ (0)

  • এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

আপনার মতামত জানান

Captcha