Friday, August 14, 2026
বাড়ি রাজ্য দল থেকেও ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করল মন্ডল সভাপতিকে

দল থেকেও ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করল মন্ডল সভাপতিকে

দল থেকেও ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করল মন্ডল সভাপতিকে

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৫ জানুয়ারি :  জমি মাফিয়া, দুর্নীতি গ্রাস করেছে ত্রিপুরা রাজ্যকে। মুখে মুখে সুশাসন, অথচ দুঃশাসনের রাজ চলছে রাজ্যে। মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতাপগড় বিধানসভা কেন্দ্রের এক বুথ সভাপতি এবং বড়জলার মন্ডল সভাপতি বিরুদ্ধে জমি মাফিয়ার অভিযোগ উঠেছে। বুথ সভাপতির ছেলেকে আটক করেছে পূর্ব আগরতলা থানার পুলিশ। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল এক নিরীহ মহিলা ও তাঁর মেয়ের উপর আক্রমণের। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই বিচারপতির উপর জমি মাফিয়া গিরি করে গ্রেপ্তার হলেন বড়জলা বিধানসভা কেন্দ্রের মন্ডল সভাপতি রাজীব সাহা। শনিবার এয়ারপোর্ট থানার পুলিশ তাকে আটক করে এনসিসি থানায় পাঠায়। রবিবার এই জমি মাফিয়াকে আদালতে তুলে পুলিশ।

 মোহনপুর আদালতে যাওয়ার সময় অভিযুক্ত কুখ্যাত মাফিয়া রাজীব সংবাদ মাধ্যমকে জানায়, তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। সে পাল্টা মামলা করছে। ত্রিপুরা রাজ্যে সুশাসন চলছে। প্রশাসনের উপর তার ভরসা আছে। কিন্তু, গত কয়েক বছরে বড়জলা বিধানসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন এলাকায় যে মন্ডল রাজ চলছে সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। মানুষের শ্বাস নিঃশ্বাস আটকে দিচ্ছে এই জমি মাফিয়ারা। তাদের যন্ত্রণায় মানুষ জমি কিনতে এবং বিক্রি করতে ভয় পায়। কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি এবং ব্যাংক ব্যালেন্স বানিয়েছে তারা মানুষের মাথায় বারি দিয়ে।

সাধারণ মানুষ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহসটুকু পান না। কিন্তু রাজ্যের একজন বিচারপতি সেই সাহস করে দেখালেন। বিচারপতির চাপে পড়ে শীর্ষ নেতৃত্বে নির্দেশে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ত্রাস মন্ডল সভাপতিকে ঘাড়ে ধরে এয়ারপোর্ট থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। এমনটাই জানা যায় এলাকায় কান পাতলে। রাতারাতি দলের মর্যাদা রক্ষা করতে প্রদেশ সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য দেবতুল্য কুখ্যাতকে বহিষ্কার করেন। তবে শুধু বড়জলা বিধানসভা কেন্দ্রে নয়, চুরাইবাড়ি থেকে সব্রুম সর্বত্র চলছে মন্ডল রাজ। তাদের সঙ্গে জড়িত বহু ক্লাব। ২০১৮-র পর রাতারাতি বিজেপি হয়ে ক্লাবের কর্মকর্তাদের সম্পত্তি ও আয় উপার্জন বেড়েছে। মানুষ কোন জায়গা জমি ক্রয় করতে গেলে বা বিক্রি করতে গেলে তাদের চোখ রাঙানিতে দিতে হয় চাহিদা অনুযায়ী মোটা অংক। নাহলে বাড়ি ঘর করার সাহস পাচ্ছে না। ধার দেনা করে এবং সর্বস্বান্ত হয়ে মানুষ একটি জমি ক্রয় করতে যায়, তখন সরকার এবং দলের নাম ভিড়িয়ে পাড়ায় পাড়ায় গজে ওঠা নেতারা এ ধরনের বেআইনি কার্যকলাপে লিপ্ত হচ্ছে। তবে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব বুঝতে পারছেন বিষয়গুলি অনেক দূর গিয়ে গড়িয়ে চলেছে। তাদের কারণে দল এবং সরকারের বদনাম হচ্ছে।

Abhishek Dey
সাংবাদিক (Journalist)

মন্তব্য সমূহ (0)

  • এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

আপনার মতামত জানান

Captcha