Thursday, October 22, 2026
বাড়ি রাজ্য জোড়া খুনের ঘটনায় মূল মাস্টার মাইন্ড সহ আটক তার বড় ভাই, মৃতের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন মন্ত্রী

জোড়া খুনের ঘটনায় মূল মাস্টার মাইন্ড সহ আটক তার বড় ভাই, মৃতের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন মন্ত্রী

জোড়া খুনের ঘটনায় মূল মাস্টার মাইন্ড সহ আটক তার বড় ভাই, মৃতের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন মন্ত্রী

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২২ অক্টোবর  : ​ধর্মনগরে দুই ভাইয়ের হত্যার ৪৮ ঘন্টার মধ্যে মূল মাস্টার মাইন্ড বিজন দাস গ্রেফতার। উত্তর ত্রিপুরার এস পি আই পি এস অভিনাশ রাই জানান, অভিযুক্ত বিজন দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধর্মনগর থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৩(১), ২৩৮ এবং ৩/৫ ধারায় ৮৯ নম্বর মামলা রুজু করা হয়েছিল। ধর্মনগর থানা এলাকার পশ্চিম দেওয়ানপাশা গ্রামের ৬ নং ওয়ার্ডের দুই ভাই শুভদীপ রায় চৌধুরী ও জয়দীপ রায় চৌধুরীর দেহ উদ্ধার হয়।

এই ঘটনায় তাদের পিতা সমীরণ রায় চৌধুরী বরুয়াকান্দি এলাকার বাসিন্দা বিজন দাস সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ধর্মনগর থানায় এক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। জানা যায়, গত রবিবার রাত আনুমানিক সাড়ে এগারোটা নাগাদ দেওয়ান পাশা অগ্রণী সংঘ ও বোয়াকান্দি এলাকার বাদশা টিলা সংলগ্ন হাইওয়ে এলাকায় একটি স্থানীয় বিবাদ মীমাংসা করতে গিয়ে শুভদীপ ও জয়দীপ হুমকির মুখে পড়েন। অভিযোগ অনুযায়ী, বোয়াকান্দি এলাকার বাসিন্দা রণধীর চন্দ্র দাসের ছেলে বিজন দাস সেখানে তাঁদের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন। পরদিন অর্থাৎ সোমবার সকাল থেকে দুই ভাইয়ের ফোনে একাধিক হুমকি মূলক কল আসে বলে মৃত ২ যুবকের বাবা দাবি করেছেন। রাত সাড়ে নয়টা নাগাদ বোয়াকান্দি এলাকা থেকে শুভদীপ ও জয়দীপের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের বাবা সমীরণ রায় চৌধুরী অভিযোগে উল্লেখ করেন, পূর্ববর্তী প্রাণনাশের হুমকি ও ঘটনার পারিপার্শ্বিকতার ভিত্তিতে এই মৃত্যুর পেছনে বিজন দাস ও তাঁর সহযোগীদের হাত থাকার তীব্র সন্দেহ রয়েছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি। তবে স্থানীয় সূত্রে খবর অনুযায়ী এই বিজন দাস রবিবার রাতে হামলা করার প্রস্তুতি করেছিল এবং বিবেক বর্ধনকে আটকে রেখেছিল ওই বিতর্কিত এলাকায়।

পরে বিবেক বর্ধনের বাড়ির লোকজনেরা তাকে ছাড়িয়ে আনে। তাদের মধ্যে আর্থিক লেনদেনের ব্যাপারকে ঘিরে এই বিতর্কের সৃষ্টি হয় বলে জানা যায়। এদিকে আহত বিজন দাস অভিযোগ করেছে বিবেক বর্ধন আকাশ দাস এবং বিশাল নাকি তাকে বেধড়ক মারধর করেছে। তারপরই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। এদিকে বিজন দাস ধর্মনগর জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। তিনি অল্পবিস্তর আহত হয়েছিল বলে আর চিকিৎসাধীন অবস্থায় কাউকে গ্রেফতার করা যায় নি। যার জন্য পুলিশ নজরদারিতে রেখেছিল যেন সে কোন ভাবেই পালাতে না পারে। বুধবার দুপুরে হাসপাতাল থেকে ছুটি পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার পুলিশ বিজনকে গ্রেফতার করে আদালতে তোলে। অপরদিকে তথ্য লোপাট করার দায়ে মূল মাস্টারমাইন্ড দুইজনের বড় ভাই রাহুল দাসকেও জালে তুলেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুর বেলা তা কেউ আদালতে সোপর্দ করে। এদিকে আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে মৃতের পরিবার সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দাবি করেন দোষীদের যেন ফাঁসি হয়। এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে দেওয়ানবাসা এলাকায় মৃত দুই যুবকের বাড়িতে যান মন্ত্রী টিংকু রায় সহ এলাকার বিধায়ক। মৃতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে আশ্বস্ত করেন সরকার এবং পুলিশ প্রশাসন দোষীদের যাতে কঠোর শাস্তি হয় সে ব্যবস্থা করবে। কোনভাবেই যেন তারা রেহাই না পায়। সংবাদ মাধ্যমে মুখোমুখি হয়ে পরবর্তী সময়ে এই কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী টিংকু রায়। তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত মূলত দুজনকে আটক করেছে। ঘটনা তদন্ত করছে পুলিশ।

Abhishek Dey
সাংবাদিক (Journalist)

মন্তব্য সমূহ (0)

  • এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

আপনার মতামত জানান

Captcha