স্যন্দন
ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২২ অক্টোবর : পূজার আনন্দ যেন নিরানন্দ! রাত জেগে পূজা দেখা
দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকাল প্রায় সাড়ে দশটা নাগাদ
আগরতলা- সাব্রুম জাতীয় সড়কের বাগমা পুলিশ ফাঁড়ির অন্তর্গত কড়াইয়ামুড়া এলাকায়
যাত্রীবাহী বাস ও মারুতির মুখোমুখি সংঘর্ষে মৃত্যু হয় দুইজনের। আহত হয়েছেন প্রায়
১৭ জন। মৃত দুজনের নাম বিমান ধর এবং রাহুল পাল। বিমান বিহারী ধরের বয়স ৮৫ এবং রাহুল
পালের বয়স ২৮। জানা যায়, WB 24 Y 4865 নম্বরে
মারুতি গাড়ি দিয়ে বিমান ধর তার নাতি রাহুল পালের সঙ্গে উদয়পুর কয়লার মাঠ এলাকায়
নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। বাগমা যাওয়ার পর TR 03 1462 নম্বরের বাসের সঙ্গে
সংঘর্ষ হয় তাদের মারুতি গাড়ির। সঙ্গে সঙ্গে পথচারীরা দমকল কর্মীদের খবর দেয়।
ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন দমকল কর্মীরা এবং বাগমা ফাঁড়ির
পুলিশ। তাদের উদ্ধার করে গোমতী জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক
প্রবীণ সাংবাদিক বিমান ধরকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। আহত রাহুল পালের চিকিৎসা শুরু করেন
চিকিৎসক। কিন্তু ৫০ মিনিট চিকিৎসা চলার পর মৃত্যুর কাছে হার মেনে যায় রাহুল। এমনটাই
জানিয়েছেন গোমতী জেলা হাসপাতালে চিকিৎসক। এদিকে রাধা কিশোর পুর থানার ওসি ঘটনাস্থলে
ছুটে আসেন। তিনি জানান প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছেন দুটি গাড়িই ডান পাশে ছিল। খবর পেয়ে
গোমতী জেলা হাসপাতালে ছুটে আসেন পরিবারের লোকজন। কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা। রাহুলের
অকাল মৃত্যু কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না। কিছুদিন পর রাহুলের বিয়ে ছিল। বুধবার
দশমীর রাতে আগরতলায় বন্ধুদের সঙ্গে কাটিয়েছেন তিনি। সকাল বেলা দাদুকে নিয়ে রওনা
হয়েছিলেন উদয়পুরের উদ্দেশ্যে।
সেখানে গিয়ে
মাতা ত্রিপুরেশ্বরী মন্দিরে পুজো দেবেন বলে ভেবেছেন। কারণ কিছুদিন আগে রাহুল পালের
চাকরি হয়েছে ইন্ডিয়ান ওয়েল কর্পোরেশনে। তারপর যাওয়ার কথা ছিল দাদুর বাড়িতে। উদয়পুর
কয়লার মাঠ এলাকায় দাদুর বাড়ি। দাদু নাতির অকাল মৃত্যুর ঘটনায় শোক স্তব্ধ সকলে।
এদিকে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। গাড়ি দুটি আটক করেছে পুলিশ। অপরদিকে ছেলের অকাল
মৃত্যুর খবর পেয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন মা-বাবা। রাহুলের মা বাবা বহিঃরাজ্যে থাকেন।
রাহুলের বাবা অবসরপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার। বর্তমানে তিনি এক ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে কর্মরত
রয়েছেন। ঘটনার খবর পেয়ে মা-বাবা দুজনই ত্রিপুরার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। বর্তমানে
মৃতদেহ দুটি গোমতী জেলা হাসপাতালে রয়েছে। ময়না তদন্তের পর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া
হবে।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান