স্যন্দন
ডিজিটাল
ডেস্ক, আগরতলা।
১১ অক্টোবর : রাজ্যের কৃষকদের আয় বৃদ্ধি এবং কৃষিক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে কৃষি ও উদ্যানপালন ক্ষেত্রের উৎপাদন বৃদ্ধির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে রাজ্য সরকার। খাদ্যশস্য উৎপাদনের পাশাপাশি বিভিন্ন উদ্যানপালন ও বাগিচা ফসলের উৎপাদন বাড়িয়ে কৃষকদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি করাই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
রবিবার খোয়াই ও কল্যাণপুরে কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দফতরের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন এবং নতুন প্রকল্পের শিলান্যাস করে এই কথা বলেন রাজ্যের কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী রতনলাল নাথ।
এদিন
মন্ত্রী খোয়াই জেলায় কৃষি, উদ্যানপালন ও মৃত্তিকা সংরক্ষণ দফতরের উপ-অধিকর্তার কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন। পাশাপাশি বৃন্দাবন ঘাট বাজারে নবনির্মিত দ্বিতল গ্রামীণ বাজারেরও উদ্বোধন করেন তিনি। এর ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষক ও ব্যবসায়ীরা উন্নত বাজার পরিকাঠামোর সুবিধা পাবেন।
মন্ত্রী জানান, বর্তমানে ত্রিপুরায় মোট ৫৫৪টি কৃষিবাজার রয়েছে। এই বাজারগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে শেড, দোকানঘর, শৌচাগার, পানীয় জলের ব্যবস্থা এবং নিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়নসহ বিভিন্ন কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ২০৪টি বাজারের উন্নয়নকাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ৮৭টি বাজারের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে এবং বাকি ১১৭টি বাজারে কাজ চলছে।
তিনি
বলেন, কৃষকরা যাতে সহজে তাঁদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে পারেন এবং পরিশ্রমের উপযুক্ত মূল্য পান, সেই লক্ষ্যেই বাজার পরিকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা এবং কৃষিক্ষেত্রের সার্বিক উন্নয়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
রতনলাল নাথ জানান, বর্তমানে রাজ্যের প্রতিটি জেলায় কৃষি এবং উদ্যানপালন ও ভূমি সংরক্ষণ দফতরের উপ-অধিকর্তা রয়েছেন। পাশাপাশি প্রতিটি ব্লকে কৃষি মহকুমা দফতর খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে কৃষকরা সহজেই কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারেন। বর্তমানে রাজ্যে ৪৭টি কৃষি মহকুমা দফতর এবং উদ্যানপালন ও ভূমি সংরক্ষণ বিভাগের ৯টি মহকুমা দফতর রয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, ২০১৮-১৯ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের মধ্যে রাজ্যে ২০৪টি বাজারের পরিকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পগুলির জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে মোট ৪৬১.৮৩ কোটি টাকা। এর তুলনায় ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে মাত্র ৭১টি বাজারের পরিকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল, যার জন্য বরাদ্দ ছিল ২০.২৬ কোটি টাকা।
কৃষকদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা আরও সহজে পৌঁছে দিতে প্রত্যেক কৃষকের জন্য স্বতন্ত্র ‘ফার্মার আইডি’ তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রাকৃতিক চাষের প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে রাজ্যে ১৩,৮৭৫ জন কৃষক মোট ৫,৫৫০ হেক্টর জমিতে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে চাষ করছেন। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে আরও ১১,২৫০ হেক্টর জমিকে প্রাকৃতিক চাষের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ২০২০-২১ অর্থবর্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত রাজ্যে উৎপাদিত জৈব কৃষিপণ্য দেশের বিভিন্ন রাজ্য এবং বিদেশের বাজারে বিক্রি করে মোট ১৭.২ কোটি টাকার বিপণন হয়েছে।
কৃষিকাজে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বৃদ্ধির বিষয়েও সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি। মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত আট বছরে রাজ্যে ৫০,৩০০টি কৃষিযন্ত্র বিতরণ করা হয়েছে, যার জন্য ২৩৩.৬৩ কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ২,৬০০টি কৃষিযন্ত্র বিতরণে ভর্তুকি দেওয়া হয়েছিল ২৮.৩৫ কোটি টাকা।
কৃষকদের উৎপাদন বৃদ্ধি, উন্নত বাজার পরিকাঠামো, আধুনিক কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার এবং সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যমে রাজ্যের কৃষি অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই সরকার কাজ করে চলেছে বলে জানান কৃষিমন্ত্রী।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান