স্যন্দন ডিজিটাল
ডেস্ক,
আগরতলা।
২১ আগস্ট : নিয়ন্ত্রণহীন আগরতলা শহর। একদিকে লাফিয়ে বাড়ছে যানবাহন, অপরদিকে বাড়ছে ঘনবসতি। পূর্বতন সরকারের আমল থেকে রাজ্যে অটোর পারমিট দেওয়া বন্ধ ছিল। কিন্তু, গত দু-তিন বছরে রাজ্যে বহিঃ রাজ্যের কিছু সংস্থা এসে অটো বিক্রি শুরু করেছে। যেগুলি রেজিস্ট্রেশন সম্পূর্ণ সংস্থার পক্ষ থেকে তুলে দেওয়া হচ্ছে, রাজ্য সরকারের হাতে নেই। যত দিন যাচ্ছে তত অটোর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে রাজ্যে। এবং এই অটোগুলি নির্দিষ্ট সীমা ছাড়িয়ে যত্রতত্রভাবে যাত্রী নিয়ে ছুটে চলেছে যেখানে খুশি সেখানে।
সরকারিভাবে গাড়িগুলির জন্য নির্দিষ্ট গণ্ডি বেঁধে দিলেও প্রশাসনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে চলেছে চালকেরা। প্রতিদিন আগরতলা শহরের বাইরের ই-রিক্সা গুলি শহরে প্রবেশের ফলে প্রায় সময় আগরতলা শহরে যানজটের সৃষ্টি হয়। তাই আগরতলা শহরের বাইরের অটো গুলিকে পরিবহন দপ্তর থেকে আগেই নির্দিষ্ট জায়গা চিহ্নিত করে দেওয়া হয়, যেই জায়গা পর্যন্ত ই-রিক্সা গুলি আসতে পারবে। কিন্তু তারপরও বেশকিছু শহরের বাইরের ই-রিক্সা প্রতিনিয়ত আগরতলা শহরে চলাচল করে। তাই বিগত কয়েকদিন ধরে আগরতলা শহরে অভিযানে নামে ট্রাফিক পুলিশ। বিশেষ করে আগরতলা শহরের বাইরের যে সকল ই-রিক্সা গুলি আগরতলা শহরে চলাচল করে সেই গুলিকে আটক করা হচ্ছে এবং জরিমানা করা হচ্ছে। ট্রাফিক এসপি কান্তা জাঙ্গির সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এই অভিযানের বিষয়ে জানান। ট্রাফিক পুলিশ ময়দানে নামার সাথে সাথে পাল্টা ময়দানে নামল ত্রিপুরা ই-রিক্সা শ্রমিক সংঘ।
সংগঠনের পক্ষ থেকে এইদিন ট্রাফিক এসপি-র নিকট ডেপুটেশন প্রদান করা হয়। তাদের বক্তব্য অভিযানের নামে ট্রাফিক পুলিশ ই-রিক্সা চালকদের হয়রানি করছে। যে সকল ই-রিক্সা জরুরি প্রয়োজনে শহরে প্রবেশ করে সেই গুলিকে আটক করে হয়রানি করা হয়। এছাড়াও পরিবহন দপ্তর থেকে যে জায়গা পর্যন্ত তাদেরকে ই-রিক্সা নিয়ে আসার অনুমতি দেওয়া হয়েছে ট্রাফিক পুলিশ তাদেরকে সেই জায়গা পর্যন্ত আসতে দিচ্ছে না। উল্লেখ্য, বেকার যুবকদের একটি সহজ মাধ্যম হলো গাড়ি চালিয়ে দুবেলা পেটে ভাত জোটানো। আগরতলা শহরের বাইরে বহু যুবক আত্মনির্ভর হতে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে গাড়ি ক্রয় করলেও প্রতি মাসে কিস্তির টাকা জটাতে পারছে না। যার কারণে তারা শহরে এসে অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করছে। এখন প্রশ্ন হল পারমিট সরকারের হাতে না থাকা কি কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে?
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান