স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৫ এপ্রিল : ভারতীয় জনতা পার্টি হল রাষ্ট্রবাদী দল এবং রাষ্ট্রবাদী সরকার। ত্রিপুরা রাজ্যে প্রথম এডিসিতে জাতীয় কোন রাজনৈতিক দল সরকার গঠন করতে চলেছে আগামী ১৭ এপ্রিল। এবং এডিসিতে সরকার গড়ে ভারতীয় জনতা পার্টি ইতিহাস তৈরি করতে চলেছে। রবিবার খুমুলুঙের চুখেরেঙ হলে সাংবাদিক সম্মেলন করে ইশতেহার প্রকাশ করতে গিয়ে এ কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন জনজাতিদের জন্য ২৯ টি প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করে বলেন, জনজাতিদের জন্য সত্যিকার অর্থে যদি কেউ উন্নয়ন করতে চায় তাহলে সেটা হলো ভারতীয় জনতা পার্টি। ভারতীয় জনতা পার্টি আগামী দিনে এডিসি এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠা করবে। গত পাঁচ বছরে এডিসিতে অস্থিরতা তীব্র আকার নিয়েছে। এর বিরোধিতা করে ভারতীয় জনতা পার্টি। এভাবেই মুখ্যমন্ত্রী এদিন তিপরা মথার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। সাংবাদিক সম্মেলনে ইশতেহার গুলি তুলে ধরেন প্রাক্তন সাংসদ রেবতী ত্রিপুরা। তিনি বলেন, ককবরক এবং অন্যান্য উপজাতি ভাষাগুলোকে ভারতীয় জনতা পার্টির নেতৃত্বে এডিসিতে সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
গ্রামীন কমিটি গুলি গণতান্ত্রিকভাবে গঠন করা হবে। নারীদের অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতায়নের জন্য প্রতিটি জোনে চারটি তাঁত ও হততাঁত শিল্প প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খোলা হবে। আদিবাসী অধুষিত এলাকাগুলির প্রতিটি জেলায় একটি করে বালিকা ছাত্রাবাস স্থাপন করা হবে, আদিবাসী অধুষিত এলাকাগুলির প্রতিটি গ্রাম কমিটি এলাকায় স্মার্ট ও আধুনিক অফিস ভবন গড়ে তোলা হবে। প্রধানমন্ত্রী বনধন যোজনার অধীনে আদিবাসীদের জীবন যাত্রার মান উন্নয়নের জন্য বনজ পণ্যের উৎপাদন, সংগ্রহের জন্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হবে, একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হবে, খুমুলুঙে একটি নার্সিং ও প্যারামেডিকেল ইনস্টিটিউট খোলা হবে। খুমুলুঙে একটি আধুনিক ফুটবল একাডেমি স্থাপন করা হবে, টিটিএএডিসি-র নাম পরিবর্তন করে ত্রিপুরা অটোনোমার্স টেরিটোরিয়াল কাউন্সিল রাখা হবে। মুখ্যমন্ত্রী মাদক মুক্ত ত্রিপুরার স্বপ্ন প্রশাসনের মাধ্যমে কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, টিটিএএডিসি এলাকায় একটি মার্শাল আর্টস একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হবে, জেলা পরিষদ এলাকার গ্রামীন বাজার গুলি আধুনিকীকরণ করা হবে।
আদিবাসী অধুষিত এলাকাগুলির মধ্যে প্রত্যেক পরিবারে বিদ্যুৎ এবং পানীয় জলের সংযোগ দেওয়া হবে। ভারতীয় জনতা পার্টি চাইছে এডিসি যেন আগামী দিন ত্রিপুরা রাজ্যের সার্বিক বিকাশের সঙ্গে এগিয়ে যেতে পারে। তার জন্য এই ইশতেহার গুলি জনজাতিদের স্বার্থে প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রাক্তন সাংসদ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা, মন্ত্রী সান্তনা চাকমা এবং রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান