স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২১ জানুয়ারি :সম্প্রতি ভৈরব মেলার চাঁদা ঘিরে ফটিকরায়ে উত্তেজনামূলক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। ঘটনার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বুধবার ফটিকরায় যান রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী। কথা বলেন এলাকার ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে। তারপর সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, যারা দেশের সাথে ত্রিপুরার রাজ্য ও রাষ্ট্রবাদের নামে নতুন ব্যবস্থা তৈরি করতে চাইছে। তাদের স্বপ্ন পূরণের দৃশ্য লক্ষ্য করা হয়েছে ফটিকরায়ে। গত ১০ জানুয়ারি শিমুলতলা এলাকার এক কাঠ ব্যবসায়ির গাড়ি এসেছিল। তখন গাড়ি চালকের কাছে এবং মালিকের কাছে চাঁদা চাওয়া হয়।
তখন তর্ক বিতর্ক ঘিরে ধাক্কাধাক্কি হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু এই ছোট্ট ঘটনা ঘিরে এত বড় ঝামেলার বিস্ফোরণ ব্যাপকভাবে ঘটেছে, সেটা কোন ভাবেই মানা যায় না। কারণ স্থানীয় একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। পাশাপাশি গাড়ি বাড়িঘর সহ দোকানপাট ভাঙচুর এবং আগুন দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকার সামগ্রী পুড়িয়ে দিয়েছে। এটাই ত্রিপুরা রাজ্যের সুশাসনের নমুনা। তিনি বলেন, যাদের মধ্যে ঝামেলা তাদের ছাড়া অন্য যাদের বাড়ি ঘর দোকানপাট এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান করেছে তাদের কি দোষ ছিল এই ঘটনায়? আসলে গত ১১ বছর ধরে দেশে এবং রাজ্যে গত সাড়ে সাত বছরে অধিক সময় ধরে হিংসার চাষ করছে বিজেপি। নিরীহ লোকের মধ্যে পর্যন্ত হিংসাত্মক মানসিকতা তৈরি করা হচ্ছে। যার কারণে রাজ্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ ও সংখ্যালঘু উভয় অংশের মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এটা হওয়া কোনভাবেই উচিত নয় বলে জানান বিরোধী দলনেতা।
আরো বলেন, দুর্ভাগ্যের হলো গত সাড়ে সাত বছর ধরে রাজ্যের সাধারণ প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসন উভয়ই পঙ্গু। এর অন্যতম উদাহরণ হল এই ঘটনা। এই ঘটনায় যেসব নিরীহ মানুষের ক্ষতি হয়েছে তাদের ঘরের লোকজনকে আবার পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। যার ফলে ঘরের মধ্যে আর্থিক অভাব বন্টন দেখা দিয়েছে। আর প্রকৃত দোষীরা বুক ফুলিয়ে ঘুরছে। এভাবেই পুলিশ প্রশাসনকে পর্যন্ত কুলুষিত করা হয়েছে। একইসঙ্গে এলাকার জনপ্রতিনিধির নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, এই এলাকার অভিভাবকের চাপে নিরীহ নির অপরাধ মানুষকে অপরাধমূলক কাজে লিপ্ত করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, জেলাশাসককে বলা হয়েছে যেন ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতা করা হয়। তিনি পাল্টা বললেন এ ধরনের ঘটনার জন্য কোন আর্থিক সহযোগিতা করার সুবিধা নেই। এই অফিসার বেচারার কথা অত্যন্ত চিন্তার বিষয়। কারণ পুলিশ প্রশাসনের সামনেই সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল সেদিন। এমন বর্বরচিত রাজত্ব ব্রিটিশ আমলেও হয়নি। ব্রিটিশ আমল থেকেও খারাপ রাজত্ব চলছে বিজেপির আমলে। তাই সকলকে রুখে দাঁড়ানোর প্রয়োজন। না হলে আজ শিমুলতলা জ্বলেছে, কাল বটতলা জ্বলবে, পরশু অন্য কোন গ্রাম জ্বলবে।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান