স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক নভেম্বর ১ : ভারত: ১৯১/৮ (ঈশান ৬১, শ্রেয়স ৫০, মিলনে ১৯/৪, স্মিথ ২৮/২)
নিউজিল্যান্ড: ১৯৫/৩ (সেইফার্ট ৯৩, ফিলিপ্স ৬৫*, নীতীশ ১৯/১, অর্শদীপ ৪০/১)
৭ উইকেটে জয়ী নিউজিল্যান্ড।
পঞ্চম টি-টোয়েন্টিতে রক্ষা হল না ‘বুঁদিগড়’। প্রথম তিন ম্যাচ জিতে শ্রেয়স আইয়ারদের যে ছন্দে দেখা গিয়েছিল, তা আচমকাই উধাও। চতুর্থ ম্যাচের পর রবিবারও জয় হাতছাড়া গৌতম গম্ভীরের ভারতের। যদিও ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ জয় টিম ইন্ডিয়ার। এদিন প্রথমে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ১৯১ রানের বেশি করতে পারেনি ‘মেন ইন ব্লু’। জবাবে দু’ওভার বাকি থাকতে ৭ উইকেটে জয়ের রান তুলে নেয় নিউজিল্যান্ড।
হ্যামিল্টনে টস জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। চলতি সিরিজে এই প্রথমবার প্রথমে ব্যাট করতে নামেন অভিষেক শর্মারা। সিরিজের শেষ ম্যাচে ভারতীয় দলে দুই বদল। সুযোগ পান বরুণ চক্রবর্তী। সাজঘর থেকেই খেলা দেখতে হল বৈভব সূর্যবংশীকে। ফিরে এলেন এসেছেন ভুবনেশ্বর কুমার। তবে শেষ ম্যাচেও তাঁর ব্যর্থতা প্রশ্ন তুলে দিল কেরিয়ার নিয়ে।
শুরুটা অবশ্য একেবারেই ভালো হল না ভারতের। দ্রুত ফিরে যান অভিষেক শর্মা (১) ও সঞ্জু স্যামসন (৪)। এরপর ইনিংসের হাল ধরেন ঈশান কিষান ও শ্রেয়স আইয়ার। দু’জনের পালটা আক্রমণে ম্যাচে ফেরে ভারত। ৩২ বলে ৬১ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন ঈশান। পাঁচটি চার ও পাঁচটি ছক্কায় সাজানো তাঁর ইনিংস। অন্য প্রান্তে আগ্রাসী মেজাজে ছিলেন শ্রেয়সও। ২৩ বলে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ভারত অধিনায়ক। তাঁর ৫০ রানের ইনিংসে রয়েছে তিনটি চার ও চারটি ছক্কা। ঈশান-শ্রেয়সের জুটিতে বড় রানের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল ভারত। কিন্তু দু’জনের পরপর ফিরে যাওয়ায় ফের চাপে পড়ে দল।
মাঝের ওভারগুলিতে একের পর এক উইকেট হারালেও রান তোলার চেষ্টা চালিয়ে যান নমন ধীর ও নীতীশ কুমার রেড্ডি। ২৩ বলে ৩৩ রান করেন ধীর। নীতীশ কুমারের ব্যাট থেকে আসে ২২ রান। শেষ দিকে ভুবনেশ্বর কুমারের অবদান ৬ রান। তবে শেষ ওভারেও স্বস্তি পায়নি ভারত। অ্যাডাম মিলনের ওভারে মাত্র ৭ রান ওঠে। সেই ওভারেই আউট হন নীতীশ কুমার রেড্ডি ও ভুবনেশ্বর। ফলে ২০০ রানের গণ্ডি পেরতে পারেনি ভারত। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৯১ রানেই থামে ইনিংস। নিউজিল্যান্ডের হয়ে অ্যাডাম মিলনে নেন ১৯ রানে ৪ উইকেট। নাথান স্মিথের শিকার ২৮ রানে ২ উইকেট। ৩৮ রান দিয়ে ২ উইকেট ব্লেয়ার টিকনারের।
১৯২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকে মেজাজে ছিলেন নিউজিল্যান্ড ব্যাটাররা। ফিন অ্যালেন (২) দ্রুত ফিরে গেলেও দুরন্ত জুটি গড়েন টিম সেইফার্ট এবং ড্যারিল মিচেল। ১৬ বলে ২৯ রানে বরুণ চক্রবর্তীর বলে মিচেল আউট হলেও টলানো যায়নি সেইফার্টকে। ভারতীয় বোলারদের উপর নির্দয় ছিলেন। চার নম্বরে গ্লেন ফিলিপ্স এদিনও ছিলেন আগুনে ফর্মে। অর্শদীপ সিং, ভুবনেশ্বর কুমার, বরুণ চক্রবর্তীদের দুই কিউয়ি ব্যাটারদের সামনে ‘সাধারণ’ মনে হয়েছিল। ১১ চার, ৫ ছক্কায় সেইফার্টের সংগ্রহ ৯৩। নীতীশ রেড্ডির বলে তিনি যখন ফিরলেন তখন ১৫.৫ ওভারে নিউজিল্যান্ডের স্কোর ১৬৮। অর্থাৎ জয়ের পথ প্রশস্ত। ফিলিপ্স অপরাজিত থাকলেন ৩৮ বলে ৬৫ রানে। হাঁকালেন ৮ চার, ৩ ছক্কা। দু’ওভার বাকি থাকতে জয়ের রান তুলে নিল কিউয়িরা। আবারও ভারতীয় বোলারদের ব্যর্থতা নিয়ে চিন্তায় থাকবেন গৌতম গম্ভীররা।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান