Monday, August 17, 2026
বাড়ি জাতীয় বিহারের অশোকধাম মন্দিরে পদপিষ্ট হয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, শ্রাবণের সোমবারে মৃত অন্তত ৭ পুণ্যার্থী

বিহারের অশোকধাম মন্দিরে পদপিষ্ট হয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, শ্রাবণের সোমবারে মৃত অন্তত ৭ পুণ্যার্থী

বিহারের অশোকধাম মন্দিরে পদপিষ্ট হয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, শ্রাবণের সোমবারে মৃত অন্তত ৭ পুণ্যার্থী

লখিসরাই, ১৭ আগস্ট (হি. স.) : শ্রাবণ মাসের পবিত্র সোমবারে বিহারের লখিসরাই জেলার বিখ্যাত অশোকধাম মন্দিরে (ইন্দ্রদমেশ্বর মহাদেব মন্দির) ঘটে গেল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। ভোরে শিবলিঙ্গে জলাভিষেক ও পুজো দেওয়ার জন্য ভক্তদের বিপুল সমাগম হয়েছিল। সেই উপচে পড়া ভিড়ের মধ্যেই হঠাৎ চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এবং পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে। খবর পাওয়া পর্যন্ত এই দুর্ঘটনায় অন্তত ৭ জন পুণ্যার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে এবং আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে লখিসরাইয়ের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে, যাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল আনুমানিক ৬টা ৪৫ মিনিট নাগাদ অশোকধাম মন্দিরের মূল প্রবেশপথের কাছে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। শ্রাবণের তৃতীয় সোমবার হওয়ায় ভোর থেকেই হাজার হাজার ভক্ত লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভিড় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

দুর্ঘটনার পর লখিসরাইয়ের এসডিপিও শিবম কুমার জানান, প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে মন্দির চত্বরের একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়েছিল। এর জেরে কয়েকজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে থাকতে পারেন, যা ভক্তদের মধ্যে তীব্র আতঙ্কের জন্ম দেয়। লখিসরাইয়ের জেলাশাসক শৈলেন্দ্র কুমার জানিয়েছেন, সকাল ৬টা ৩০ থেকে ৬টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে দুটি ট্রেন স্টেশনে পৌঁছানোর পর একসঙ্গে হাজার হাজার ভক্ত মন্দিরে প্রবেশ করতে শুরু করেন। অতিরিক্ত চাপের ফলে একপর্যায়ে বাঁশের ব্যারিকেড ভেঙে পড়ে এবং মানুষ একে অপরের ওপর আছড়ে পড়েন।

প্রাথমিক রিপোর্টে প্রকাশ, মন্দিরের প্রবেশপথের কাছে একটি ছিঁড়ে যাওয়া বিদ্যুতের তার ঘিরে পুণ্যার্থীদের মধ্যে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভক্তরা ছোটাছুটি শুরু করলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে। এছাড়া প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি অনুযায়ী, মন্দিরের প্রবেশপথটি কিছুটা ঢালু হওয়ায় এবং ব্যারিকেডের ওপর প্রায় ১০০ জনের একটি দল অতিরিক্ত চাপ দেওয়ায় কাঠামোটি ভেঙে পড়ে। পেছনের ভিড়ের চাপে মাটিতে পড়ে যাওয়া মানুষদের ওপর দিয়েই অন্যরা যাওয়ার চেষ্টা করেন।

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু, নাকি কেবল ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে এই দুর্ঘটনা—তা খতিয়ে দেখতে প্রশাসন পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে। শ্রাবণের এই পবিত্র দিনে পুজো দিতে এসে এমন করুণ পরিণতিতে পুরো লখিসরাই এলাকা জুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

Subrata Debnath
Subrata Debnath https://syandanpatrika.in
সাংবাদিক (Journalist)

মন্তব্য সমূহ (0)

  • এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

আপনার মতামত জানান

Captcha