Wednesday, November 4, 2026
বাড়ি রাজ্য ২০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ছাড়ালো রাজ্য, বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে নতুন বিপ্লবের সূচনা

২০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ছাড়ালো রাজ্য, বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে নতুন বিপ্লবের সূচনা

২০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ছাড়ালো রাজ্য, বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে নতুন বিপ্লবের সূচনা

 

 

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৪ নভেম্বর : একটি বাড়ির ছাদে কয়েকটি সোলার প্যানেল। সূর্যের আলো থেকে তৈরি হচ্ছে বিদ্যুৎ। সেই বিদ্যুৎ দিয়ে চলছে বাড়ির আলো, পাখা, ফ্রিজসহ যাবতীয় বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম। আর প্রয়োজনের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে মূল গ্রিডে। এভাবেই এক একটি বাড়ি যখন নিজের বিদ্যুতের চাহিদা নিজেরাই মেটাতে শুরু করেছে, তখন নীরবে বদলে যাচ্ছে গোটা রাজ্যের বিদ্যুৎ উৎপাদনের চিত্র। ত্রিপুরায় সেই পরিবর্তন এখন আর কেবল সম্ভাবনা নয়, বাস্তব। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্বপ্নের পিএম সূর্য ঘর মুফত বিজলি যোজনার হাত ধরে রাজ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সম্মিলিত স্থাপিত উৎপাদনক্ষমতা ইতিমধ্যেই ২০ মেগাওয়াট অতিক্রম করেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে এই সাফল্য আগামী দিনে ত্রিপুরার জন্য এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলেই প্রত্যাশা।

এই ২০ মেগাওয়াটকে নিছক একটি পরিসংখ্যান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি রাজ্যের বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে এক নীরব বিপ্লবের সূচনা। কারণ, এই বিদ্যুৎ কোনও একটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আসছে না। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা হাজার হাজার সাধারণ মানুষের বাড়ির ছাদ কিংবা টিনের চাল থেকেই তৈরি হচ্ছে এই বিদ্যুৎ। অর্থাৎ, বিদ্যুৎ উৎপাদনের দায়িত্ব এখন আর শুধু বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র কিংবা সরকারি ব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। সাধারণ মানুষও হয়ে উঠছেন বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রত্যক্ষ অংশীদার।

৩ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পিএম সূর্য ঘর মুফত বিজলি যোজনায় ত্রিপুরায় মোট ১৮,১৮৬টি সৌরবিদ্যুৎ আবেদনের রেজিস্ট্রেশন হয়েছে। এর মধ্যে ৮,৪২১টি আবেদন জমা পড়েছে। জমা পড়া আবেদনগুলির প্রস্তাবিত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা ২৬,৯৬১ কিলোওয়াট পিক (কেডব্লিউপি)। ইতিমধ্যেই রাজ্যে ৫,৮১৯টি বাড়িতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এই প্রকল্পগুলির সম্মিলিত স্থাপিত উৎপাদনক্ষমতা ২০,০০২ কিলোওয়াট পিক, অর্থাৎ প্রায় ২০ মেগাওয়াট।

এই পরিসংখ্যানের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আর্থিক সাফল্যও। ইতিমধ্যে ৫,০৯২ জন গ্রাহক সরকারি ভর্তুকি পেয়েছেন। তাঁদের অ্যাকাউন্টে মোট ৪৩ কোটি ১ লক্ষ ৭৩ হাজার টাকা ভর্তুকি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, পরিবেশবান্ধব শক্তি উৎপাদনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের বিদ্যুৎ খরচের বোঝা কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে এই প্রকল্প। প্রতিদিনই নতুন নতুন পরিবার এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। ৩ নভেম্বরের সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টাতেও ১১টি নতুন আবেদন রেজিস্ট্রেশন হয়েছে এবং ১১টি আবেদন জমা পড়েছে। এই আবেদনগুলির প্রস্তাবিত উৎপাদনক্ষমতা ৪৩ কিলোওয়াট পিক।

ত্রিপুরার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ভবিষ্যৎ চিত্রে এই প্রকল্প কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, তা ২০ মেগাওয়াটের এই সাফল্য থেকেই স্পষ্ট। এতদিন বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং প্রচলিত জ্বালানির উপর নির্ভরশীলতা ছিল প্রধান। কিন্তু ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা সেই ধারণায় পরিবর্তন আনছে। রাজ্যের হাজার হাজার বাড়ি এক একটি ক্ষুদ্র বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে। এর ফলে একদিকে যেমন প্রচলিত বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উপর চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির ব্যবহারও বাড়ছে। আগামী দিনে এই প্রকল্পের পরিধি আরও বিস্তৃত হলে ত্রিপুরার বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসতে পারে।

ত্রিপুরা রাজ্য বিদ্যুৎ নিগম লিমিটেডের ব্যবস্থাপক অধিকর্তা বিশ্বজিৎ বসুর নেতৃত্বে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন ও প্রসারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রাজ্য সরকার এবং বিদ্যুৎ নিয়মের লক্ষ্য , আরও বেশি সংখ্যক পরিবারকে সৌরবিদ্যুতের আওতায় এনে বাড়ির ছাদকেই বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করা। এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো, বাড়িতে সোলার প্যানেল স্থাপন করলে শুধু বিদ্যুৎ বিল কমানোর সুযোগই তৈরি হয় না, বরং নিজের বাড়িকেই একটি ছোট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত করা যায়। দিনের বেলায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ নিজের প্রয়োজনে ব্যবহার করার পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ করার সুযোগ রয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ খরচ কমানোর পাশাপাশি বাড়তি বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা পাওয়ার পথও খুলে যাচ্ছে।

 

 

 

Abhishek Dey
সাংবাদিক (Journalist)

মন্তব্য সমূহ (0)

  • এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

আপনার মতামত জানান

Captcha