স্যন্দন
ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৬ অক্টোবর : খাদ্যশস্যের
উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্যে রাজ্যকে স্বনির্ভর করে তোলা এবং কৃষির সার্বিক বিকাশের পাশাপাশি
কৃষকদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে রাজ্য সরকার। কৃষি ব্যবস্থার
আধুনিকীকরণ এবং কৃষকদের কাছে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে একাধিক
পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
শুক্রবার
উত্তর ত্রিপুরার যুবরাজনগরে এগ্রি ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ কাম ট্রেনিং সেন্টার এবং কৃষক
বন্ধু কেন্দ্রের উদ্বোধন করে এই কথা জানান কৃষি ও কৃষক কল্যাণমন্ত্রী রতনলাল নাথ।
মন্ত্রী জানান,
রাজ্যের আটটি জেলার মধ্যে দক্ষিণ ত্রিপুরা, গোমতী ও সিপাহিজলা—এই তিনটি জেলা খাদ্যশস্য উৎপাদনে স্বনির্ভরতা
অর্জন করেছে। খোয়াই জেলা ধান উৎপাদনে স্বনির্ভর। অন্যদিকে, ঊনকোটি ও ধলাই জেলাও খাদ্যশস্য
উৎপাদনে স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে চলেছে। তবে উত্তর ত্রিপুরা ও পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা
এখনও কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে বলে তিনি জানান।
রতনলাল নাথ
বলেন, অতীতে রাজধানী আগরতলা ও জেলা সদরগুলির বাইরে কৃষি দফতরের সুপরিকল্পিত পরিকাঠামোর
যথেষ্ট অভাব ছিল। এর ফলে বিভিন্ন কৃষি মহকুমার কৃষকদের কাছে প্রয়োজনীয় পরিষেবা পৌঁছে
দেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিত।
এই পরিস্থিতির
পরিবর্তন ঘটাতে রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে একটি করে কৃষি মহকুমা গড়ে তোলার বিশেষ পরিকল্পনা
গ্রহণ করেছে সরকার। এর মাধ্যমে কৃষিজমির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা, কৃষকদের সময়মতো
আধুনিক কৃষি উপকরণ সরবরাহ করা এবং কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা
সরাসরি কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জানান,
ত্রিপুরায় মোট ৫৮টি ব্লকের মধ্যে বর্তমানে কৃষি মহকুমার সংখ্যা ৪৭। ২০১৮ সালের আগে
এই সংখ্যা ছিল ৩৬। একইভাবে, বর্তমানে রাজ্যে উদ্যানপালন মহকুমার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে
৯-এ, যা ২০১৮ সালের আগে ছিল ৮টি।
কৃষি ব্যবস্থার
সার্বিক উন্নয়নে আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও
জানান তিনি। সেই লক্ষ্যেই ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষ থেকে রাজ্যে মোট ২৮টি কৃষি মহকুমা দফতরের
ভবন আধুনিকীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পগুলির জন্য আরআইডিএফ, স্টেটস ফর
ক্যাপিটাল ইনভেস্টমেন্টে বিশেষ সহায়তা (এসএএসসিআই), এনইসি এবং স্পেশাল অ্যাসিস্ট্যান্স
ক্যাপিটাল—এই চারটি প্রকল্পের আওতায় মোট ৭৫ কোটি
৪১ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
এদিন যুবরাজনগর কৃষি মহকুমার নতুন দফতর ভবনেরও উদ্বোধন করেন কৃষিমন্ত্রী। আরআইডিএফ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত এই ভবনের জন্য ৩ কোটি ১২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
আধুনিক এই
দফতর ভবনের উপরের তলায় কৃষকদের প্রশিক্ষণের জন্য একটি প্রশিক্ষণ হল থাকবে। পাশাপাশি,
সেখানে কম্পিউটার, ইন্টারনেট পরিষেবা, প্রজেক্টর এবং ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মতো আধুনিক
সুবিধাও রাখা হবে। এর মাধ্যমে কৃষকদের সর্বশেষ কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ ও
ধারণা দেওয়া সম্ভব হবে।
মন্ত্রী আরও
বলেন, আধুনিক পরিকাঠামো ও প্রশিক্ষণের সুযোগ সম্প্রসারণের এই উদ্যোগ রাজ্যে বিজ্ঞানভিত্তিক
কৃষি পদ্ধতির প্রসারে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কৃষি উৎপাদন
বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এই পরিকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান