স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৮ জানুয়ারি: ২০১৮ সালে বর্তমান সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে ভিআইপিদের এসকর্টের ধাক্কায় একাধিক মানুষের মৃত্যু এবং আহত হওয়ার ঘটনা সামনে আসলেও সম্বিত ফিরছে না সরকারের। এবার মন্ত্রী শুক্লা চরণ নোয়াতিয়ার কনভয়ের ধাক্কায় মৃত্যুর কুলে ঢলে পড়লেন প্রাক্তন প্রধান শিক্ষকের। ঘটনা বুধবার বিশালগড়ের বাইপাস সড়কের লকডাউন বাজার সংলগ্ন এলাকায়। মৃত প্রাক্তন শিক্ষকের নাম অমর চাঁদ চৌধুরী। বাইক নিয়ে রাস্তা অতিক্রম করার সময় মন্ত্রীর বেসামাল কনভয় অমর চাঁদ চৌধুরীর বাইকে সজোড়ে ধাক্কা দেয়। এতে বাইক থেকে ছিটকে পরে গুরুতর ভাবে আহত হন তিনি।
সাথে সাথে মন্ত্রী শুক্লা চরণ নোয়াতিয়া গাড়ি থেকে নেমে নিরাপত্তা রক্ষীদের নির্দেশ দেন আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য। মন্ত্রীর নিরাপত্তা রক্ষীরা আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে বিশালগড় মহকুমা হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলে, মাঝ রাস্তা থেকে দমকল কর্মীরা আহত ব্যক্তিকে তাদের গাড়িতে করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পিছু পিছু বিশালগড় মহকুমা হাসপাতালে যান মন্ত্রী শুক্লা চরণ নোয়াতিয়া। আহত ব্যক্তির অবস্থা আশঙ্কা জনক হওয়ায় বিশালগড় মহকুমা হাসপাতাল থেকে তাকে জিবি হাসপাতালে রেফার করে দেওয়া হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক। মন্ত্রী শুক্লা চরণ নোয়াতিয়া নিজের এসকটে দোষ ঢাকতে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, অমর চাঁদ চৌধুরী আচমকা বাইক নিয়ে তার সিকিউরিটির গাড়ির সামনে চলে আসে। ফলে দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে বর্তমান সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে বহু ভিআইপি গাড়ির ধাক্কায় এমন দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটেছে। অকালে ঝরেছে নিরীহ মানুষের জীবন।
কিন্তু কোন ভিআইপির গাড়ির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। কিন্তু প্রতিদিন মানুষের জীবন ঝুকিতে ফেলছে এই ভিআইপি বাবুদের গাড়ি। যাদের কাছে একসময় ভাঙ্গা সাইকেল পর্যন্ত ছিল না, তারা এখন এসকর্ট পেয়ে রাস্তায় পথচারীদের মানুষ বলে মনে করছে না। তাদের উপদ্রবে অতিষ্ঠ এবং আতঙ্কিত মানুষ। এই মন্ত্রী বাহাদুর থেকে শুরু করে শাসক দলের চেয়ারম্যানরা পর্যন্ত আজ ভিআইপি গাড়ি এবং এসকর্টের নিয়ে ঘুরছেন। জনগণের পয়সায় ৪০-৫০ লক্ষ টাকার বিলাসবহুল গাড়ি সহ একাধিক সিকিউরিটির গাড়ি নিয়ে তারা এদিক-ওদিক ছুটেন। যেদিকে যাচ্ছেন সেদিকেই অতিরিক্ত গতিতে ছুটছেন। রাস্তায় থাকা গাড়ি বাইক, পথচারীরা পাশ দেওয়ার জন্য উচ্চস্বরে হর্ন বাজানোর পাশাপাশি সিকিউরিটি গার্ডদের চিৎকারে মানুষ রীতিমতো আতঙ্কিত করে ফেলেন। বিশেষ করে মহিলারা এবং বয়স্ক মানুষ আতঙ্কিত হয়ে এদিক-ওদিকে যাওয়ার সময় অন্যান্য গাড়ির নিচে চাপা পড়ার মতো অবস্থা হয়ে দাঁড়ায়। এক প্রকার ভাবে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে প্রতিদিন আগরতলা শহর সহ তাঁরা যেদিকে যাচ্ছেন সেদিকেই। এদিকে বুধবারের ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে মন্ত্রীর এসকটের দায়িত্বে থাকা চালকের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে? নাকি মন্ত্রীর এসকর্ট বলে কথা? সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, আর কত হত্যার লীলা ভিআইপি গাড়ি দ্বারা হবে? কিসের এত ব্যস্ততা মন্ত্রী বাহাদুরদের? সারাদিন খেলা, মেলা নিয়েই ব্যস্ত থাকেন তাঁরা! মহাকরণে তাঁদের পদধুলো প্রতিদিন পড়ে কিনা সেটা জানা নেই রাজ্যবাসীর।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান