Thursday, October 15, 2026
বাড়ি রাজ্য এমবিবি জলাশয়ের সৌন্দর্যায়ন বৃদ্ধির নামে অবৈজ্ঞানিকভাবে কাজকর্ম হয়েছে, সার্ভে করতে গেল প্রশাসনিক টিম

এমবিবি জলাশয়ের সৌন্দর্যায়ন বৃদ্ধির নামে অবৈজ্ঞানিকভাবে কাজকর্ম হয়েছে, সার্ভে করতে গেল প্রশাসনিক টিম

এমবিবি জলাশয়ের সৌন্দর্যায়ন বৃদ্ধির নামে অবৈজ্ঞানিকভাবে কাজকর্ম হয়েছে, সার্ভে করতে গেল প্রশাসনিক টিম

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৮ অক্টোবর :এমবিবি জলাশয়টির কৃত্রিম ভাবে সৌন্দর্যায়ন বৃদ্ধি করতে গিয়ে হুমকির মুখে ইকোলজিক্যাল ব্যালেন্স। বহু বছর পুরনো এমবিবি কলেজ লেইক ছিল পরিযায়ী পাখিদের বিশ্বের বিভিন্ন গতিপথের মধ্যে অন্যতম একটি গতিপথ। আগরতলা স্মার্ট সিটি কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতার কারণে এবং অনভিজ্ঞতার কারণে হুমকির মুখে পরিযায়ী পাখিদের এই গতিপথ। গত কয়েকদিন আগে মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহার হাত ধরে উদ্বোধন হয়েছে এই বিনোদনের স্থান।

কিন্তু সঠিক পরিকল্পনার যে কতটা অভাব রয়েছে সেটা মুখ্যমন্ত্রীকে একপ্রকার ভাবে ঘুমে রেখেছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকরা। তড়িঘড়ি করে উদ্বোধন করা হয়েছে জলাশয়টির। যার কারণে ইতিমধ্যে মানবাধিকার কমিশনে মামলা করেছে পরিবেশ বিদরা। তাদের মতে এটা অত্যন্ত অমানবিক কাজ করেছে প্রশাসন। যারা এই অমানবিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে গিয়ে মামলা করেছে তাদের উপস্থিতিতে শনিবার মানবাধিকার কমিশন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি সার্ভে করা হয়। পরিবেশবিদরা দাবি করেন, বহু বছর ধরে পরিযায়ী পাখীরা এই জলাশয়ে আসছে। কিন্তু এই পার্ক গড়ে তোলার পর সেটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র হয়ে উঠছে। তাতে জৈব বৈচিত্রে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট দফতরের প্রতিনিধিরা প্রতিটি বিষয় যাচাই করে দেখছেন। মূলত পরিবেশ ও জলাশয় সংরক্ষণ মঞ্চ থেকে কলেজ টিলার এই পার্ক নিয়ে মানবাধিকার কমিশনে অভিযোগ জানানো হয়েছে। এদিনের পরিদর্শনকারী দলে ছিলেন মানবাধিকার কমিশন, ভূমি ও রাজস্ব দফতর, পরিবেশ ও জলাশয় সংরক্ষণ মঞ্চ সহ অন্যান্য বিভাগের আধিকারিক ও প্রতিনিধিরা। তারা আরো জানিয়েছেন, আগে থেকেই মামলা চলছিল। তার মধ্য দিয়েও উদ্বোধন পর্ব শেষ করেছে প্রশাসন।

 সৌন্দয্যায়ণ বৃদ্ধি নিয়ে পরিকল্পনা করার আগেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে কিছু বিষয়ে অবগত করা হয়েছিল। কিন্তু তারা এই বিষয়গুলি মান্যতা দেয়নি। এই পার্কের সামনে রয়েছে দাঁড়ানোর জায়গা। যার কারণে পরিযায়ী পাখিরা জলাশয়ে বসতে চাইবে না। কারণ এই পাখিগুলি অত্যন্ত পরিবেশ বান্ধব এবং তারা মানুষ দেখলে ভয় পায়। শুধু তাই নয়, কৃত্রিম সৌন্দর্যায়ন বৃদ্ধি করতে গিয়ে পাখিদের বাসস্থান পর্যন্ত নষ্ট করা হয়েছে। অপরদিকে জলাশয়ের চারিদিকে বিভিন্ন গাছের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে বাঁদর ছিল। এগুলি এখন আর থাকতে পারছে না।

কারণ এই বিনোদনের জায়গা হওয়ার পর থেকে তারা পরিবেশের সাথে খাপ খাচ্ছে না। অপরদিকে জলাশয়ের মধ্যে সেতু নির্মাণ করে জল বিভাজিত করা হয়েছে। যার কারণে জল বাঁধা প্রাপ্ত হয়েছে। এ বিষয়গুলি নজরে আসতেই মানবাধিকার কমিশনে মামলা করা হয়েছে। তারপর তারা এই বিনোদনের জায়গার দায়িত্ব থাকা বিভিন্ন দপ্তরকে নোটিশ দিয়েছে। শনিবার রাজস্ব দপ্তরের পক্ষ থেকে সার্ভে করতে এসেছে বলে জানান। পরিবেশবিদ নিখিল দেবনাথ আরো জানিয়েছেন এটা উন্নয়ন নয়। উন্নয়নের নামে ধ্বংস। ২৭ থেকে ২৮ রকমের পরিযায়ী পাখি প্রতি বছর এই জলশয়ে আসে। কিন্তু পৌর সভার অনুমতি না নিয়েই অবৈজ্ঞানিকভাবে করা হয়েছে বলে জানান তারা।

Abhishek Dey
সাংবাদিক (Journalist)

মন্তব্য সমূহ (0)

  • এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

আপনার মতামত জানান

Captcha