স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক নভেম্বর ৪ : গত ২৬ অক্টোবর গুয়াহাটির হোটেলে গুলি কাণ্ডে মৃত্যু হয়েছিল ৫ জনের। মর্মান্তিক সেই হত্যাকাণ্ডে মূল অভিযুক্ত ঘনকান্ত গগৈয়ের মৃত্যু হল পুলিশের গুলিতে। জানা যাচ্ছে, বুধবার অসমের শিবসাগর জেলায় পুলিশের পিস্তল ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করে অভিযুক্ত। এরপর বাধ্য হয়েই গুলি চালায় পুলিশ। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় ৩৪ বছরের গগৈয়ের।
পুলিশের তরফে জানা গিয়েছে, এই ঘটনা ঘটেছে বুধবার ভোর ৩টে ১০ নাগাদ। শিবসাগর জেলার গৌরীসাগর থানার অন্তর্গত রংমন ধাবার কাছে। শিবসাগর পুলিশের একটি দল অন্য এক বিচারাধীন মামলার সূত্রে গুয়াহাটি থেকে নিয়ে আসা হচ্ছিল গগৈকে। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, শৌচকর্ম করার জন্য গাড়ি থামাতে অনুরোধ করে গগৈ। গাড়ি থামলে এক পুলিশ আধিকারিকের পিস্তল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে অভিযুক্ত। পুলিশের সঙ্গে রীতিমতো ধস্তাধস্তি হয়। এই সময় গুলি ছিটকে আহত হন এক পুলিশকর্মী। এই পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে গুলি চালায় পুলিশ। তিনটি গুলি লাগে অভিযুক্তের শরীরে। আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে মৃত্যু হয় তাঁর। ঘটনায় আহত পুলিশকর্মীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শিবসাগরের পুলিশ সুপার পাপোরি চেটিয়া বলেছেন, পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতি সংক্রান্ত একটি মামলার অভিযুক্ত গগৈকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, সেই সময়ই এই ঘটনা ঘটে। গগৈয়ের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের হয়েছিল ২০২৪ সালে। পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক থেকে গাড়ি কেনার ঋণ নিয়ে কিস্তি শোধ করেনি অভিযুক্ত। উলটে ব্যাঙ্কের তৎকালীন শাখা ম্যানেজার দেবব্রত বরগোহাঁইকে হুমকি দেয়। গুয়াহাটি আদালত ৩ নভেম্বর পুলিশি হেফাজতের মেয়াদ আরও সাত দিন বাড়ানোর আবেদন খারিজ করে গগৈকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠায়। তার পরেই শিবসাগর পুলিশের দল তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
উল্লেখ্য, গত ২৬ অক্টোবর গুয়াহাটির বড়া সার্ভিস এলাকার বিলাস ইন হোটেলে গুলি চালানোর ঘটনায় পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ভয়ংকর এই ঘটনায় মুল অভিযুক্ত ছিল গগৈ। তদন্তে জানা যায়, হোটেলের মালিকপক্ষের সঙ্গে লিজ সংক্রান্ত বিবাদ থেকেই গোলমালের সূত্রপাত। ভাড়ার চুক্তি ও হোটেলের সংস্কার নিয়ে মতবিরোধের জেরে বৈঠকের আগেই বচসা শুরু হয়। তার পরেই গুলি চালায় গগৈ।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান