স্যন্দন ডিজিটেল ডেস্ক, অক্টোবর ২৯ : গত কয়েকমাসে জেন জি আন্দোলন দেশে ক্রমশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। কেন তাদের রোষ, নেপথ্যে কি বিদেশি শক্তির উসকানি? এমন নানা প্রশ্ন ঘুরছে এদেশের আকাশে-বাতাসে। এবার সেই প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজবে আরএসএস। নভেম্বরের শুরুতেই তিনদিনের সভা বসবে নাগপুরে। আর সেখানেই এই বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা হবে।
২ থেকে ৪ নভেম্বর বসবে ওই সভা। এই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে আরএসএসের এক সিনিয়র কর্মী বলছেন, ”তরুণদের উদ্বেগ কিন্তু খাঁটি। তাদের স্বীকৃতি দিয়েছেন সংঘপ্রধান মাননীয় মোহন ভাগবত। তবে তিনি ওই আন্দোলনে বিদেশি শক্তির হাত থাকার সম্ভাবনা বিষয়ে দশেরার বক্তৃতায় তিনি যা বলেছিলেন সেটা আলাদা বিষয়। একে তরুণদের ইস্যুতে আরএসএসের অবস্থান পরিবর্তন হিসাবে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়। দু’টো আলাদা বিষয়।” সেই সঙ্গেই তিনি বলছেন, ”ইতিহাস সাক্ষী, যুগে যুগে তরুণদের মধ্যে এমন অস্থিরতা দেখা গিয়েছে দেশে দেশে। আমাদের উচিত ওদের কথা শোনা। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির কথা শোনানো। এবং নিয়মিত যোগাযোগ রেখে দেওয়া। ওদের কিছু বোঝানোর চেষ্টা করে কিন্তু লাভ নেই। তবে ভালো বিষয় হল আরএসএস সবসময় যুবকদের সঙ্গে যুক্ত থাকে। আমাদের শাখায় ঐতিহাসিকভাবে তরুণদের অংশগ্রহণ বেশি। আজও, আমাদের ৮৮ হাজার শাখার ৬০ শতাংশ অংশগ্রহণকারীই তরুণ।”
গত এক যুগে নরেন্দ্র মোদির শাসনের সময় বারবার দেখা গিয়েছে যখনই দেশ ও সরকার কোনও বিতর্কে জড়িয়েছে, কোনও সংকটে পড়েছে, তখনই একটি উদার ভাবমূর্তি নিয়ে সামনে এগিয়ে এসেছেন সরসংঘচালক মোহন ভাগবত। আরএসএসের গোঁড়া সমর্থকদের রক্ষণশীল ভাবনার ঠিক বিপরীতে হেঁটে গিয়ে তিনি এমন নিদান দিয়েছেন– যা উদারপন্থীদেরও বিস্মিত করেছে। মোদি সরকারের দীর্ঘ দিন ক্ষমতায় টিকে থাকার ক্ষেত্রে ভাগবতের এই ভূমিকা যে কার্যকর হয়েছে, তাতে সন্দেহ নেই। জেন জি প্রজন্মের সঙ্গে ভাগবতের বৈঠকের পর পুরো দেশে যন্তর মন্তরের আন্দোলন নিয়ে সুর পরিবর্তন হয়েছে কট্টরপন্থী আরএসএস ও বিজেপি সমর্থকদের। এবার দেখার আরএসএসের সভা থেকে কোন ছবি উঠে আসে।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান