স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক ১১ অক্টোবর : মণিপুরে অশান্তির আগুন যেন কিছুতেই নিভছে না। গত ৪৮ ঘণ্টায় নতুন করে হিংসার ঘটনায় সে রাজ্যে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৯ জনের। আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। রাজ্যে নতুন করে হিংসা ছড়াতেই মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচাঁদ সিং সোজা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বারস্থ হয়েছেন। সূত্রের খবর, রাজ্যে শান্তি ফেরাতে সবরকমভাবে মণিপুর সরকারকে সাহায্য করার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
আসলে শুক্রবার রাতে মণিপুরের কামজং জেলার চাসাদ গ্রামে একটি প্রতিবাদ চলাকালীন এক মহিলাকে গুলি করে হত্যা করার অভিযোগ ওঠে। এর পরেই মণিপুরে নতুন করে হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের জেরে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন। শনিবার জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, হিংসা ছড়িয়ে পড়া রুখতে জেলা কর্তৃপক্ষ চাসাদ পুলিশ গেট জংশনের ৪০০ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬২ ধারা জারি করেছে। এই ধারায় পাঁচ বা তার বেশি লোকের জমায়েত নিষিদ্ধ। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।
এই প্রথম নয়। গত কয়েক সপ্তাহে লাগাতার ছোটখাটো হিংসার খবর প্রকাশ্যে আসছে। ১৩ সেপ্টেম্বর দুটি পৃথক হামলায় চার কুকি-জো সম্প্রদায়ের মানুষ নিহত হয়েছিলেন। এর পরেও হামলার খবর প্রকাশিত হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই মণিপুর নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের জায়গা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দিল্লির বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী খেমচাঁদ প্রধানমন্ত্রী মোদিকে রাজ্যের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানান। প্রধানমন্ত্রীও রাজ্যের কাজের প্রশংসা করে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দেন।
১৯৯২ সাল থেকে মণিপুরে কুকি ও নাগা জনজাতির মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, সেই সংঘাতে এক হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ২০২৩ সালের মে মাসে মেইতেই ও কুকিদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সেই সংঘাতে ২৬০-রও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। সংঘাত শুরুর প্রায় ২১ মাস পরে, ২০২৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি মণিপুরের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং পদত্যাগ করেন। চলতি বছরই নতুন করে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছেন ওয়াই খেমচাঁদ সিং। সব ঠিক থাকলে পাঁচমাস পর ভোট হওয়ার কথা মণিপুরে। কিন্তু এভাবে হিংসা বাড়তে থাকলে আদৌ ভোট সময়মতো হবে কিনা সংশয় থেকে যাচ্ছে।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান