জম্মু, ১৭ আগস্ট (হি. স.) : জম্মু-কাশ্মীরের পুঞ্চ জেলার লোরান উপত্যকায় পুলস্ত্য নদীর তীরে অবস্থিত হিমালয়ের প্রাচীন তীর্থক্ষেত্র বুঢ্ঢা অমরনাথের বার্ষিক যাত্রা সোমবার থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো। সকালে আনুমানিক সাড়ে ছয়টা নাগাদ জম্মুর ভগবতী নগর বেস ক্যাম্প থেকে তীর্থযাত্রীদের প্রথম দলটিকে পতাকা নেড়ে বিদায় জানান জম্মু ও কাশ্মীরের উপ-রাজ্যপাল (এলজি) মনোজ সিনহা। এই প্রাচীন ও পৌরাণিক মন্দিরটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪,৬০০ ফুট উচ্চতায় এবং জম্মু শহর থেকে প্রায় ২৯০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
প্রশাসন সূত্রের খবর, জম্মু-রাজৌরি-পুঞ্চ জাতীয় সড়কে নিরাপত্তা বাহিনীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। ভগবতী নগর বেস ক্যাম্প ও তার আশপাশের এলাকাতেও আঁটসাঁট নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও উপ-রাজ্যপালের বার্তা
যাত্রাকে কেন্দ্র করে পুঞ্চের দশনামি আখড়া মন্দির ও শঙ্কর নগর এলাকায় পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (এসওজি) তল্লাশি অভিযান চালায়। এ সময় প্রতিটি বাড়ি তল্লাশি করার পাশাপাশি সেখানে বসবাসকারী ও ভাড়াটিয়াদের যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়। অচেনা কাউকে বাড়িতে আশ্রয় না দেওয়া এবং কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা কার্যকলাপ চোখে পড়লে অবিলম্বে পুলিশ হেল্পলাইনে জানানোর জন্য সাধারণ মানুষকে অনুরোধ জানিয়েছে প্রশাসন।
১২ দিনব্যাপী এই বুঢ্ঢা অমরনাথ যাত্রা আগামী ২৮ আগস্ট রক্ষা বন্ধনের দিন সমাপ্ত হবে। যাত্রা শুরুর ঠিক আগের দিন সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ এক বার্তায় উপ-রাজ্যপাল মনোজ সিনহা জানান, জম্মুতে এই তীর্থযাত্রার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি সত্য ও আধ্যাত্মিক শক্তির প্রতীক ভগবান শিবের চরণে প্রণাম জানান। এই যাত্রা দেশের নাগরিকদের ধর্মাচরণ, করুণা এবং জাতীয় সংহতিকে সুদৃঢ় করার প্রেরণা জোগাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তীর্থক্ষেত্রের গুরুত্ব ও স্থানীয় সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত
পবিত্র এই যাত্রাটি পুঞ্চ জেলার মান্ডি তহসিলের রাজপুরা গ্রামে অবস্থিত শিব মন্দিরে গিয়ে শেষ হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, ভগবান শিব অমরনাথ গুহায় দেবী পার্বতীকে যে অমরত্ব-কথা শুনিয়েছিলেন, তার সূচনা হয়েছিল এই স্থান থেকেই। হিন্দু ধর্মে বিশ্বাস করা হয় যে, বুঢ্ঢা অমরনাথ দর্শন না করলে মূল অমরনাথ যাত্রা অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
গোটা যাত্রা পথের সুরক্ষায় অতিরিক্ত সিএপিএফ জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া পুঞ্চ জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সংস্থাগুলির উদ্যোগে যাত্রীদের জন্য ওয়াটার-প্রুফ তাবু, লঙ্গর (কমিউনিটি কিচেন), পার্কিং এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বন্দোবস্ত করা হয়েছে।
পীর পঞ্জাল পর্বতশ্রেণীর পাদদেশে অবস্থিত এই মন্দিরটি পুঞ্চ শহর থেকে প্রায় ২৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। পাক-সীমান্ত সংলগ্ন এই পুঞ্চ উপত্যকার মন্দিরের আশেপাশে কোনো হিন্দু পরিবার বাস করেন না। তবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নজির গড়ে স্থানীয় মুসলিম পরিবার ও বিএসএফ জওয়ানরাই যৌথভাবে এই মন্দিরের দেখভাল করেন।
প্রতি বছরের মতো ত্রয়োদশীর দিন পুঞ্চের দশনামি আখড়া থেকে পবিত্র 'ছড়ি মুবারক' যাত্রা শুরু হয়। সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীর সুসজ্জিত টিম রূপোর তৈরি পবিত্র ছড়িটির পুজো শেষে তাকে ‘গার্ড অফ অনার’ প্রদর্শন করে সম্মান জানায়। দিল্লি থেকে আগত শিবভক্ত মহিলারাও প্রতি বছর এখানে পৌঁছে বিএসএফ জওয়ানদের দীর্ঘায়ু কামনায় রাখিবন্ধন উৎসবে শামিল হন।
জম্মু-কাশ্মীরে পবিত্র বুঢ্ঢা অমরনাথ যাত্রা শুরু: কড়া নিরাপত্তায় প্রথম দল রওনা, পতাকা নেড়ে সূচনা করলেন এলজি সিনহা
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান