চেন্নাই, ১২ আগস্ট (হি.স.): লোকসভায় মোট আসনসংখ্যা ৫৪৩-তেই স্থায়ীভাবে ধরে রাখা এবং ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচন থেকেই ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করার দাবি জানিয়ে বুধবার তামিলনাড়ু বিধানসভায় প্রস্তাব পেশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয়। প্রস্তাবে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল রাজ্যগুলির সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব যাতে ভবিষ্যতের সীমানা পুনর্বিন্যাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করারও দাবি জানানো হয়েছে।
বিধানসভায় প্রস্তাবটি পেশ করে বিজয় বলেন, বর্তমানে লোকসভার ৫৪৩টি আসনের ভিত্তিতেই মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ কার্যকর করা সম্ভব। এর জন্য ভবিষ্যতের সীমানা পুনর্বিন্যাস বা লোকসভা আসন বাড়ানোর অপেক্ষা করার কোনও কারণ নেই। তাঁর কথায়, মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ কোনও রেয়াত নয়, এটি তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার। বিজয় বলেন, একজন মহিলার ক্ষমতায়ন হলে একটি পরিবার এগিয়ে যায়। আর হাজার হাজার মহিলা ক্ষমতায়িত হলে এগিয়ে যায় গোটা দেশ। তাই রাজনৈতিক ব্যবস্থায় মহিলাদের সমান সুযোগ এবং পর্যাপ্ত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
মহিলা সংরক্ষণ কার্যকরে দেরি নিয়েও কেন্দ্রের সমালোচনা করেন তিনি। বিজয় বলেন, জনগণনা এবং সীমানা পুনর্বিন্যাসের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু আইন পাশ হওয়ার পরও তা কার্যকর করতে এত দেরি করা উচিত নয়। জনগণনা ও সীমানা পুনর্বিন্যাসকে কারণ দেখিয়ে মহিলা সংরক্ষণ পিছিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না।
সীমানা পুনর্বিন্যাসে দক্ষিণের রাজ্যগুলির প্রতিনিধিত্ব কমার আশঙ্কা
বিজয় বলেন, ১৯৭১ সালের পরের কোনও জনগণনাকে ভিত্তি করে লোকসভা কেন্দ্রের সীমানা পুনর্বিন্যাস করা হলে তামিলনাড়ু-সহ দক্ষিণের সেই রাজ্যগুলির সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যারা দীর্ঘদিন ধরে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ করেছে।
তাঁর বক্তব্য, যে রাজ্যগুলি জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছে, সীমানা পুনর্বিন্যাসের পর তাদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব যেন কোনওভাবেই কমে না যায়। দক্ষিণের রাজ্যগুলির কাছে এটি বাস্তব উদ্বেগের বিষয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, লোকসভায় বর্তমান ৫৪৩টি আসন স্থায়ীভাবে বজায় রাখা প্রয়োজন। পাশাপাশি রাজ্যগুলির মধ্যে আসন বণ্টনও এমনভাবে স্থির রাখতে হবে, যাতে সীমানা পুনর্বিন্যাসের কারণে কোনও রাজ্যের প্রতিনিধিত্বে নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে।
২০২৯-এর ভোটেই কার্যকর হোক মহিলা সংরক্ষণ
তামিলনাড়ু বিধানসভার প্রস্তাবে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করার দাবি জানানো হয়েছে। বিজয় বলেন, বর্তমান ৫৪৩টি লোকসভা আসনের ভিত্তিতেই ২০২৯ সালের নির্বাচনে মহিলা সংরক্ষণ চালু করা সম্ভব।
মুখ্যমন্ত্রীর পেশ করা প্রস্তাবটি আলোচনার পর সর্বসম্মতভাবে পাশ হয়। প্রস্তাবে সীমানা পুনর্বিন্যাসের সম্ভাব্য প্রভাব থেকে দক্ষিণের রাজ্যগুলির সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব রক্ষা, লোকসভার বর্তমান ৫৪৩টি আসন অপরিবর্তিত রাখা এবং ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানানো হয়েছে।
প্রস্তাবটি পেশের পর বিধানসভার অধ্যক্ষ জে.সি.ডি. প্রভাকর আলোচনার জন্য তা গ্রহণ করেন এবং বিধায়কদের মতামত জানানোর সুযোগ দেন। বামপন্থী দলগুলির সদস্যরা প্রস্তাবের সমর্থনে বক্তব্য রাখেন। ডিএমডিকেও প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে তামিলনাড়ুর সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব সুরক্ষিত রাখা এবং মহিলা সংরক্ষণ দ্রুত কার্যকর করার পক্ষে মত দেয়।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান