Thursday, August 13, 2026
বাড়ি জাতীয় গুয়াহাটির জালুকবাড়িতে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড, জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মৃত্যু একই পরিবারের দুই সন্তান সহ চারজনের

গুয়াহাটির জালুকবাড়িতে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড, জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মৃত্যু একই পরিবারের দুই সন্তান সহ চারজনের

গুয়াহাটির জালুকবাড়িতে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড, জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মৃত্যু একই পরিবারের দুই সন্তান সহ চারজনের

গুয়াহাটি, ৫ জুন (হি.স.) : গুয়াহাটির জালুকবাড়িতে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে একটি পরিবার সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। জীবন্ত অগ্নিদগ্ধ হয়ে গৃহকর্তা, তাঁর পত্নী এবং দুই সন্তান সহ চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের যথাক্রমে কুদ্দুস আলি, কাজলি বেগম এবং তাঁদের দুই সন্তান বলে শনাক্ত করা হয়েছে।

জালুকবাড়ি থানা কর্তৃপক্ষের কাছে জানা গেছে, আজ ভোররাত প্রায় দুটো নাগাদ জালুকবাড়ির জয়মতীনগরে সংঘটিত হয়েছে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। সে সময় প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। এর মধ্যে আগুন লেগেছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে দুটি ইঞ্জিন নিয়ে দমকল বাহিনীকে সঙ্গে করে পুলিশের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে। দমকল বাহিনী সর্বশক্তি নিয়োগ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

আগুন নিয়ন্ত্রিত হওয়ার পর বসতঘরের ভেতর থেকে এক পরিবারের চার সদস্যের দগ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত চারটি মৃতদেহের ময়নাতদন্তের জন্য গৌহাটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে অগ্নিকাণ্ডে একটি পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যুর পাশাপাশি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে কুদ্দুস আলিরর বসতঘর এবং সমস্ত আসবাবপত্র ও অন্যান্য সম্পত্তি। স্থানীয়রা জানান, নিহত পরিবারের মূল বাড়ি ছিল লোয়ার অসমের গোয়ালপাড়া জেলার লক্ষ্মীপুরে। এখানে একটি হোটেল চালাতেন তাঁরা। হোটেলে ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডারের বিস্ফোরণ থেকেই এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে সন্দেহ করছেন তাঁরা।

উল্লেখ্য, হতভাগ্য পরিবারটি একটি ভাড়াঘরে বসবাস করত। এর মালিক জনৈক রেহানা চৌধুরী। অভিযোগ, তিনি ভাড়াটেদের পরিচয়পত্র সংগ্রহ না করে বাড়ি ভাড়া দিয়েছিলেন। ছোট ছোট ১১টি কোঠা তৈরি করে বহু পরিবারকে এখানে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কোঠায় তিন থেকে চার সদস্যের পরিবার বসবাস করেন। বাঁশের খুঁটির মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান স্থানীয়রা। এছাড়া, ওই ১১টি কোঠায় মোট ১৩টি গ্যাস সিলিন্ডার রাখা ছিল। অগ্নিকাণ্ডের সময় তিনটি সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়েছে। পুলিশকে ভাড়াটিয়াদের আধার কার্ড দেখানোর কথা বললে আচমকা বাড়ির মালিক রেহানা চৌধুরী নিখোঁজ হয়ে যান। প্রতিটি কোঠার জন্য তিনি মাসে ২,৫০০ টাকা করে ভাড়া নেন।

জালুকবাড়ি থানা কর্তৃপক্ষ জানান, প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে এক মামলা রুজু করে তদন্ত করা হবে।

Subrata Debnath
Subrata Debnath https://syandanpatrika.in
সাংবাদিক (Journalist)

মন্তব্য সমূহ (0)

  • এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

আপনার মতামত জানান

Captcha