Monday, August 10, 2026
বাড়ি বিশ্ব সংবাদ নতুন যুদ্ধজাহাজ থেকে কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার

নতুন যুদ্ধজাহাজ থেকে কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার

নতুন যুদ্ধজাহাজ থেকে কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার

সিউল , ৫ জুলাই (হি.স.) : উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন দেশের নতুন ৫,০০০ টন ওজনের এবং ১৪০ মিটার দীর্ঘ বহুমাত্রিক নৌ-যুদ্ধজাহাজ 'কাং কোন' থেকে কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র-সহ একাধিক আধুনিক অস্ত্র ব্যবস্থার পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ পর্যবেক্ষণ করেছেন। তিনি আগামী দু'মাসের মধ্যেই যুদ্ধজাহাজটিকে নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি ১০,০০০ টন শ্রেণির আরও উন্নত কৌশলগত যুদ্ধজাহাজ দ্রুত নির্মাণ ও উদ্বোধনের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।

রবিবার জানা গেছে , শুক্রবারের পরীক্ষায় কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, নৌ-কামান, স্বয়ংক্রিয় বন্দুক এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ব্যবস্থার সফল পরীক্ষা করা হয়। উত্তর কোরিয়ার দাবি, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে যুদ্ধজাহাজটির বিভিন্ন অস্ত্র ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করাই ছিল এই পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য।

কিম জং-উন বলেন, দেশের প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং সামরিক শক্তিকে আরও জোরদার করা হবে। রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সামরিক সক্ষমতার আরও দৃঢ় প্রদর্শনের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করবে।

এদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী জানিয়েছে, শুক্রবার উত্তর কোরিয়া পূর্ব সাগর (জাপান সাগর) অভিমুখে একাধিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে, যা তাদের নজরে এসেছে। এই পরীক্ষার প্রযুক্তিগত দিকগুলি নিয়ে সিউল ও ওয়াশিংটনের সামরিক বিশেষজ্ঞরা যৌথভাবে বিশ্লেষণ করছেন।

উত্তর কোরিয়ার সরকারি টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ফুটেজে একের পর এক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের দৃশ্য দেখা গিয়েছে। গত বছর 'কাং কোন' যুদ্ধজাহাজটির প্রথম উৎক্ষেপণের সময় সেটি উল্টে গিয়েছিল। পরে মেরামত ও প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের পর পুনরায় সফলভাবে এর পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।

সামরিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, পরীক্ষায় উত্তর কোরিয়ার 'হওয়াসাল' সিরিজের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। পিয়ংইয়ং যেহেতু এগুলিকে কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে উল্লেখ করছে, তাই এগুলিতে পরমাণু ওয়ারহেড বহনের সক্ষমতা থাকতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।

কিম জং-উন আগেই দাবি করেছিলেন, 'কাং কোন' যুদ্ধজাহাজে বিমান প্রতিরক্ষা, জাহাজ বিধ্বংসী, সাবমেরিন-বিধ্বংসী এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা রয়েছে। তাঁর দাবি, এই যুদ্ধজাহাজ থেকে পরমাণু সক্ষম কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ট্যাকটিক্যাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও উৎক্ষেপণ করা সম্ভব।

সম্প্রতি উত্তর কোরিয়া একই শ্রেণির আর একটি ৫,০০০ টনের যুদ্ধজাহাজ 'চো হিয়ন'-কেও নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম উপকূলে 'চো হিয়ন' এবং পূর্ব উপকূলে 'কাং কোন' মোতায়েন করে সমুদ্রভিত্তিক পরমাণু সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে চাইছে পিয়ংইয়ং। কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ইউনিফিকেশন-এর গবেষক হং মিনের মতে, আগামী ৯ সেপ্টেম্বর দেশ প্রতিষ্ঠার ৭৮তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে 'কাং কোন'-কে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তর কোরিয়ার নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।

উত্তর কোরিয়ার অভিযোগ, দক্ষিণ কোরিয়া ও আমেরিকার ধারাবাহিক সামরিক তৎপরতায় কোরীয় উপদ্বীপে পরমাণু সংঘাতের আশঙ্কা বেড়েছে। অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়া ও আমেরিকা উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও অস্ত্র কর্মসূচির উপর কড়া নজর রাখছে।

উল্লেখ্য, ১৯৫০-৫৩ সালের কোরিয়া যুদ্ধ শান্তিচুক্তির মাধ্যমে নয়, যুদ্ধবিরতিতে শেষ হয়েছিল। ফলে প্রযুক্তিগতভাবে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া এখনও যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে।

Subrata Debnath
Subrata Debnath https://syandanpatrika.in
সাংবাদিক (Journalist)

মন্তব্য সমূহ (0)

  • এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

আপনার মতামত জানান

Captcha