স্যন্দন
ডিজিটাল
ডেস্ক, আগরতলা।
২৬ অক্টোবর :স্ট্রোককে সাধারণত বেশি বয়সের মানুষের অসুস্থতা বলে মনে করা হলেও,
ভারতে উদ্বেগজনক হারে আক্রান্ত হচ্ছেন তরুণরাও। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ
(আইসিএমআর)-এর ন্যাশনাল স্ট্রোক রেজিস্ট্রির তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রতি সাতজন স্ট্রোক
রোগীর মধ্যে প্রায় একজনের বয়স ৪৫ বছরের কম। কর্মক্ষম বয়সে এই রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায়
জনস্বাস্থ্য ক্ষেত্রে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে
দেশের ৩০টি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৩৪,৭৯২ জন স্ট্রোক রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করে এই চিত্র
উঠে এসেছে। সমীক্ষায় দেখা যায়, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে প্রায় ১৪ শতাংশের
হাসপাতাল থেকে ছুটি পাওয়ার আগেই মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, বেঁচে যাওয়া রোগীদের একটি বড়
অংশ শারীরিক প্রতিবন্ধকতা বা অক্ষমতা নিয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরেন।
উচ্চ রক্তচাপই প্রধান ঝুঁকি
স্ট্রোকের অন্যতম প্রধান
কারণ হিসেবে উঠে এসেছে উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন। রেজিস্ট্রির তথ্য অনুযায়ী, প্রায়
৭৪.৫ শতাংশ রোগীর উচ্চ রক্তচাপ ছিল। এ ছাড়া ডায়াবেটিস, ধূমপান, ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত
পণ্যের ব্যবহার এবং মদ্যপানও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত
রক্তচাপ পরীক্ষা না করা, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক
পরিশ্রমের অভাবের মতো বিষয়গুলি ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তরুণ বয়সে অনেকেই নিজেদের সুস্থ
বলে মনে করেন এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান না। ফলে উচ্চ রক্তচাপের মতো নীরব সমস্যাও
দীর্ঘদিন অজানা থেকে যায়।
খাবারে অতিরিক্ত নুন, বাড়ছে
বিপদ
ভারতীয়দের খাদ্যাভ্যাসও
উদ্বেগের কারণ। জাতীয় স্তরের সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রাপ্তবয়স্কদের দৈনিক গড়
লবণ গ্রহণের পরিমাণ প্রায় ৮ গ্রাম, যেখানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দৈনিক ৫ গ্রামের
কম লবণ গ্রহণের পরামর্শ দেয়।
খাবারে অতিরিক্ত নুন রক্তচাপ
বাড়াতে পারে। তাই প্যাকেটজাত খাবারে লবণের পরিমাণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা, খাদ্যপণ্যে
লবণের ব্যবহার কমানো এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি। পাশাপাশি
নিয়মিত শরীরচর্চা, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং তামাক বর্জনের উপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
তরুণদের স্বাস্থ্য পরীক্ষায়
জোর
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের
মতে, শুধু অসুস্থ হওয়ার পর চিকিৎসা করলেই চলবে না। তরুণ বয়স থেকেই নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা,
প্রয়োজন অনুযায়ী ডায়াবেটিস পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে
হবে। যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ ধরা পড়েছে, তাঁদের নিয়মিত ওষুধ গ্রহণ এবং চিকিৎসকের ফলো-আপ
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্য
পরিষেবা ও স্ট্রোক চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানোও প্রয়োজন। কারণ, দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছতে না
পারলে রোগীর মৃত্যু কিংবা স্থায়ী শারীরিক অক্ষমতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে
দেরি নয়
হঠাৎ মুখের এক পাশ বেঁকে
যাওয়া, হাত বা পায়ে দুর্বলতা, কথা জড়িয়ে যাওয়া কিংবা কথা বুঝতে অসুবিধা হওয়া—এসব স্ট্রোকের
সতর্কসংকেত হতে পারে। এমন লক্ষণ দেখা দিলে অপেক্ষা না করে অবিলম্বে জরুরি চিকিৎসা পরিষেবার
সাহায্য নিতে হবে।
স্ট্রোকের ক্ষেত্রে সময়
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছলে উপযুক্ত রোগীদের ক্ষেত্রে রক্ত জমাট
বাঁধা দূর করার চিকিৎসা বা অন্যান্য জরুরি চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং স্ট্রোকের লক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা—এই
তিনটি পদক্ষেপ বহু ক্ষেত্রে ঝুঁকি কমাতে পারে। তরুণ বয়সে স্ট্রোকের ক্রমবর্ধমান বোঝা
মোকাবিলায় প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য পরিষেবা আরও জোরদার করা এখন সময়ের দাবি।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান