নয়াদিল্লি, ২০ অক্টোবর (হি.স.): বিজয়াদশমী উপলক্ষে পূর্ব দিল্লির আইপি এক্সটেনশনে আয়োজিত
দশেরা অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। অনুষ্ঠানে পুজো-অর্চনায় অংশ
নেওয়ার পাশাপাশি দেশবাসীকে বিজয়াদশমীর শুভেচ্ছা জানান তিনি। এ দিন অনুষ্ঠানে রাবণ দহনও
করা হয়।
বক্তব্যের শুরুতে ভগবান শ্রীরাম, মাতা জানকী এবং বজরংবলীর চরণে প্রণাম জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী
বলেন, বিজয়াদশমী উপলক্ষে তিনি দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। তাঁর কথায়, দেশের
প্রতিটি গ্রাম ও শহরে আজ শ্রীরামের আদর্শের আবহ। সারা দেশ রামলীলার উৎসবে মেতে উঠেছে।
রামলীলার দীর্ঘ ঐতিহ্য শ্রীরামের আদর্শকে জীবন্ত রাখে। একই সঙ্গে এই উৎসব অত্যাচার
ও সন্ত্রাসের অবসান এবং মিথ্যার বিরুদ্ধে চিরন্তন সত্যের জয়ের বিশ্বাসকে তুলে ধরে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাজার হাজার বছর ধরে ভারত, ভারতীয় সংস্কৃতি এবং পূর্বপুরুষেরা
ভগবান শ্রীরামের আরাধনা করে আসছেন। শুধু রাবণকে পরাজিত করার জন্যই শ্রীরামের প্রতি
মানুষের এই বিশ্বাস নয়, মানবসভ্যতার ইতিহাসে তাঁর অতুলনীয় আদর্শও এই শ্রদ্ধার মূল কারণ।
জীবনে বহু প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েও শ্রীরাম সত্য ও নীতির পথ ত্যাগ করেননি বলে উল্লেখ
করেন তিনি।
দেশের ঐক্য ও জাতীয় স্বার্থের উপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, দেশের
সমস্ত প্রতিষ্ঠান এবং রাজনৈতিক দলগুলির জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকা প্রয়োজন। দেশের
সম্মানের ক্ষতি করতে চায়, সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করে কিংবা ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি বিদ্বেষ
পোষণ করে—এমন শক্তির বিরুদ্ধে একজোট হয়ে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। বিজয়াদশমীর এই
শুভক্ষণে দেশবাসীকে ভারতমাতার শত্রুদের চিহ্নিত করে পরাজিত করার সংকল্প নেওয়ার কথাও
বলেন প্রধানমন্ত্রী।
ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয় সংরক্ষণের প্রসঙ্গে মোদী বলেন, আত্মসম্মানবোধ ছাড়া কোনও
দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয়। আর দেশের ঐতিহ্য সেই আত্মসম্মানবোধ জাগিয়ে তোলার ক্ষেত্রে
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাঁর দাবি, গত ১২ বছরে ৬৫০টিরও বেশি প্রাচীন প্রত্নবস্তু
ও মূর্তি বিদেশ থেকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। দেশের একাধিক ঐতিহ্যবাহী স্থান সাম্প্রতিক
বছরগুলিতে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পেয়েছে। গত বছর দীপাবলিও মানবতার
অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পেয়েছে বলে উল্লেখ করেন
তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিজয়াদশমী শুধু বিজয়ের উৎসব নয়, প্রতিকূলতার মধ্যেও সত্য ও মানবতার
পক্ষে থাকার প্রেরণা। প্রতিপক্ষ যত শক্তিশালীই হোক, সত্যের পথে থাকলে শেষ পর্যন্ত জয়
আসবে—এই বিশ্বাসই ভারতের সাংস্কৃতিক চেতনার অন্যতম ভিত্তি।
রামরাজ্যের আদর্শ ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রামরাজ্য এমন এক শাসনব্যবস্থা,
যেখানে বৈষম্যের স্থান নেই, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয় এবং প্রত্যেকে সমান সুযোগ পান।
সেখানে ক্ষমতার উদ্দেশ্য শুধু শাসন করা নয়, মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা। দরিদ্র ও প্রান্তিক
মানুষের সেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শ্রীরামের জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে সঙ্কটের সময়ে অন্যের উপর
নির্ভর না করে নিজেদের সামর্থ্য ও সম্পদের উপর আস্থা রাখতে হবে। সংকল্পকে শক্তিতে পরিণত
করে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। এই আদর্শকে সামনে রেখেই বিকশিত
ভারত ও আত্মনির্ভর ভারত গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিজয়াদশমীতে রামরাজ্যের আদর্শে বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার বার্তা মোদীর, দিল্লিতে রাবণ দহন অনুষ্ঠানে যোগ প্রধানমন্ত্রীর
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান