স্যন্দন
ডিজিটাল
ডেস্ক, আগরতলা।
১৪ অক্টোবর : গোমতী জেলা ও দায়রা আদালতের বিচারক রবি ধাইয়ার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে আইনজীবী মহল। বুধবার সাংবাদিক সম্মেলনে গোমতী জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদিকা সুমন্তা চক্রবর্তী বলেন, ১৩ দিন ধরে অচল গোমতী আদালত। বিচারকের বিরুদ্ধে অপমানজনক আচরণের অভিযোগ, বিচারক পরিবর্তনের দাবিতে অনড় বার অ্যাসোসিয়েশন। তারা বলেন বিচারকের বিরুদ্ধে আইনজীবীদের সঙ্গে অপমানজনক আচরণ, মহিলা আইনজীবীদের উদ্দেশে অবমাননাকর মন্তব্য এবং বিভিন্ন বিচারিক সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তাঁরা। বর্তমান বিচারককে সরিয়ে নতুন বিচারক নিয়োগের দাবিতে নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকার কথা জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ আইনজীবীরা।
আইনজীবীদের অভিযোগ, আদালতের মতো একটি মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে আইনজীবীদের সঙ্গে অপমানজনক আচরণ কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁদের দাবি, প্রকাশ্য আদালতে বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদিকাকে ‘ইডিয়ট’ ও ‘ক্রীতদাস’-এর মতো শব্দে সম্বোধন করা হয়েছে। মহিলা আইনজীবীদের প্রতিও অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে। এই ধরনের আচরণ আদালতের পরিবেশ ও পারস্পরিক মর্যাদা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে বলে মনে করছেন আন্দোলনরত আইনজীবীরা। তিনি আরো জানান, সংশ্লিষ্ট বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতের বিচারপতি ও রেজিস্ট্রার জেনারেল-সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আগেই অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও কার্যকর সমাধান মেলেনি বলে তাঁর অভিযোগ।
এদিকে বিচারিক সিদ্ধান্ত নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আইনজীবীরা। তাঁদের অভিযোগ, অসুস্থতার কারণে হাজিরা থেকে অব্যাহতির আবেদন প্রত্যাখ্যান, জামিন বাতিল ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি-সহ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁদের আপত্তি রয়েছে। সরকারি পাবলিক প্রসিকিউটরের মুখ পুলিশ কনস্টেবলকে দিয়ে পরীক্ষা করানোর অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বিচারকের বক্তব্য জানা যায়নি। এক-দু’দিন নয়, টানা ১৩ দিন ধরে পেন ডাউন আন্দোলন! আইনজীবীদের এই কর্ম বিরতির জেরে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে গোমতী জেলা ও দায়রা আদালতের স্বাভাবিক কাজকর্ম। বর্তমান বিচারককে পরিবর্তন করে নতুন বিচারক নিয়োগ না করা পর্যন্ত আদালতের কাজে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন আন্দোলনকারীরা। আইনজীবীদের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত সমাধানের পাশাপাশি আদালতের স্বাভাবিক কাজকর্ম ফিরিয়ে আনার দাবি উঠছে। বিচারক ও আইনজীবীদের মধ্যে চলমান এই সংঘাতের দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় থাকা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদিকা সুমন্তা চক্রবর্তী আরো জানান যতদিন পর্যন্ত এই বিচারপতিকে এখান থেকে না সরানো হবে ততদিন পর্যন্ত তারা জেলা আদালত বয়কট করে রাখবে।অন্যদিকে, এই অচলাবস্থার সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হচ্ছে সাধারণ বিচার প্রার্থীদের। কেউ জামিনের আশায়, কেউ দীর্ঘদিনের মামলার শুনানির অপেক্ষায় আদালতে এসে ফিরে যাচ্ছেন। দূরদূরান্ত থেকে যাতায়াতের খরচ বহন করে এবং কর্মদিবস নষ্ট করেও প্রত্যাশিত পরিষেবা না পাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তাঁরা।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান