Friday, August 14, 2026
বাড়ি রাজ্য ৪২ তম আগরতলা বইমেলার উদ্বোধন হয় বুধবার

৪২ তম আগরতলা বইমেলার উদ্বোধন হয় বুধবার

৪২ তম আগরতলা বইমেলার উদ্বোধন হয় বুধবার

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ২১ ফেব্রুয়ারি : প্রাকৃতিক দুর্যোগকে উপেক্ষা করে মননের উৎসব ৪২ তম আগরতলা বইমেলার শুভ উদ্বোধন হয় বুধবার। আগরতলা স্থিত হাঁপানিয়া আন্তর্জাতিক মেলা প্রাঙ্গনে আনন্দঘন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক বইমেলার শুভ উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ডিজিটাল যুগেও বইয়ের কদর তুলে ধরেন। মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা বক্তব্য রেখে বলেন, বইয়ের রস আজও অনেক রয়েছে।

প্রতিবছর বইমেলার আয়োজন করার মূল উদ্দেশ্য হলো সকলের মধ্যে বই পড়ার উৎসাহ বৃদ্ধি করা। যাতে সকলের মধ্যে অভ্যেস তৈরি হয় বই পড়ার। আজকাল মোবাইলের মাধ্যমে সবকিছু দেখে অনেকেই ভাবে অভিজ্ঞতা অর্জন করে নিয়েছে। কিন্তু বইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত জ্ঞান বৃদ্ধি হয় ও সঠিক তথ্য পাওয়া যায়। কারণ বই যখন প্রকাশ হয় তখন সীলমোহর দিয়ে প্রকাশ করা হয়। তাই বই পড়ার অভ্যেস সকলকে করতে হবে। পাশাপাশি তিনি চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে বলেন মোবাইল ফোন থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করে চিকিৎসা করা অত্যন্ত বিপদজনক। প্রত্যেক চিকিৎসকের অবশ্যই বই পড়ার প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে বই কেনা ও বই পড়ার নেশার প্রয়োজন। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন কোন অনুষ্ঠানে উপহার হিসেবে যদি বইয়ের দেওয়া হয় তাহলে লেখক ও প্রকাশক উভয়ের মধ্যে উৎসাহ বাড়বে। এবং বই যখন বিক্রি বাড়বে তখন বিক্রেতারাও উৎসাহিত হয়ে রাজ্যের বাইরে থেকে নতুন নতুন বই আমদানি করবে। অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ছেলে মেয়েদের পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি অন্যান্য বই পড়াতে হবে। কারণ পৃথিবীতে জানতে হলে তাদের বই পড়তে হবে। বই পৃথিবীর জানালা। তাই বই পড়ার মধ্য দিয়ে মানুষের উৎকর্ষতা বাড়ে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী।

তিনি আরো বলেন, প্রযুক্তির যথেষ্ট উন্নয়ন হয়েছে। যার কারনে বই বর্তমানে কম্পিউটারের ডিসপ্লেতে চলে আসে। এইটার উপকারিতা ও অপকারিতা দুইটাই রয়েছে। বর্তমান সময়ের ছেলে মেয়েরা অনেক মেধাবি। কোন বিষয় বইয়ে পাঠ্য না হলে তা কোন সময় গ্রহণ করা উচিত নয়। বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে এই বছরের বই মেলার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু সিবিএসই বোর্ডের পরীক্ষায় বিষয়টি বই মেলার প্রস্তুতি কমিটির বৈঠকে কেউ উত্থাপন করে নি। মুখ্যমন্ত্রী এইদিন বই মেলা আয়োজক কমিটির নিকট আহ্বান জানান আগামি বছর যেন এই বিষয়টিও মাথায় রেখে বই মেলার দিন নির্ধারণ করা হয়। বইমেলাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন প্রকাশনী সংস্থা অংশ নিয়েছে। বইমেলার বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে প্রবীণ, তরুণ, লেখকদের লেখা বিভিন্ন বই মেলা প্রাঙ্গনে আবরণ উন্মোচন হয়। সুতরাং বই নিয়ে বইপ্রেমীদের উৎসাহে কোন ঘাটতি ছিল না শুরুর দিন। বইমেলাকে কেন্দ্র করে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা বিধানসভার উপাধ্যক্ষ রামপ্রসাদ পাল, বিধানসভার মুখ্য সচেতন কল্যাণী রায়, আগরতলা পুর নিগমের মেয়র দীপক মজুমদার, বিধায়িকা মিনারানী সরকার সহ অন্যান্যরা। মুখ্যমন্ত্রী সহ অন্যান্য অতিথিরা পরবর্তী সময় বইমেলা স্টল গুলি ঘুরে দেখে ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলেন।

Abhishek Dey
সাংবাদিক (Journalist)

মন্তব্য সমূহ (0)

  • এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

আপনার মতামত জানান

Captcha