স্যন্দন ডিজিটাল
ডেস্ক, আগরতলা। ২১ অক্টোবর : উৎসবের আনন্দ যখন একেবারে মধ্য গগনে, ঠিক তখনই মহা নবমীর
রাতে কৃষ্ণপুর বিধানসভা কেন্দ্রের চাকমাঘাটে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ।
দ্রুত গতিই কেড়ে নিল ১৭ বছরের এক নাবালকের তরতাজা প্রাণ। মৃত যুবকের নাম জিৎ সরকার।
বয়স ১৭। গুরুতর আহত অপর আরোহী দ্বীপ চৌধুরী। তারও বয়স ১৭। বর্তমানে জিবি হাসপাতালে
মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে সে।
জানা গেছে,
মঙ্গলবার রাতে একটি লাল রঙ্গের স্কুটি নিয়ে তেলিয়ামুড়ার দিক থেকে চাকমাঘাটের দিকে
বেপরোয়া গতিতে যাচ্ছিল দুই নাবালক। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, লোকনাথ আশ্রম সংলগ্ন এলাকায়
নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে স্কুটিটি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ি অথবা বিশাল বটগাছে
সজোরে ধাক্কা মারে। ধাক্কার তীব্রতা এতটাই ছিল যে, স্কুটিটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং
দুই আরোহী রক্তাক্ত অবস্থায় ছিটকে পড়ে জাতীয় সড়কে। বিকট শব্দ শুনে স্থানীয়রা ছুটে
এসে দেখেন রক্তে ভেসে যাচ্ছে রাস্তা। খবর পেয়ে তেলিয়ামুড়া অগ্নি নির্বাপক দপ্তরের
কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে এবং দু'জনকে উদ্ধার করে তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালে
নিয়ে যায়।
সেখানে কর্তব্যরত
চিকিৎসক জিৎ সরকার'কে মৃত বলে ঘোষণা করেন। দ্বীপের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে আগরতলা
জিবি হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে ১৭ বছর বয়সী দুই নাবালকের হাতে
কে তুলে দিল এই দ্রুতগতির স্কুটি? উৎসবের রাতে অভিভাবকদের নজরদারি কোথায় ছিল? নবমীর
রাতে জাতীয় সড়কে ট্রাফিক পুলিশের ভূমিকা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। হেলমেট বিহীন, লাইসেন্স
বিহীন নাবালকরা কীভাবে অবাধে জাতীয় সড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে? পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু
করেছে। দুর্ঘটনাগ্রস্ত স্কুটিটি আটক করা হয়েছে। নবমীর আনন্দের রাতেই এই মৃত্যু গোটা
চাকমাঘাট এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান