গণ্ডাছড়া (ত্রিপুরা), ২৫ জানুয়ারি (হি.স.) : উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উন্নয়নে পর্যটন শিল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে—এই বার্তা দিয়ে শনিবার ধলাই জেলার গণ্ডাছড়ার নারিকেলকুঞ্জে মাতাবাড়ি ট্যুরিজম সার্কিটের শিলান্যাস করলেন কেন্দ্রীয় উত্তর-পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন (ডোনার) মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। প্রায় ২৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই ট্যুরিজম সার্কিট গড়ে তোলা হবে।
শিলান্যাস অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী, বিধায়ক নন্দিতা দেববর্মা রিয়াং, এমডিসি ভূমিকানন্দ রিয়াং, ধলাই জেলার জেলাশাসক বিবেক এইচ বি, জেলা পুলিশ সুপার মিহিরলাল দাস, পর্যটন দফতরের সচিব উত্তম কুমার চাকমা, ত্রিপুরা পর্যটন উন্নয়ন নিগমের ম্যানেজিং ডিরেক্টর প্রশান্ত কুমার নেগি এবং গণ্ডাছড়া মহকুমার মহকুমা শাসক চন্দ্রজয় রিয়াং সহ অন্যান্য আধিকারিকরা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডোনার মন্ত্রী বলেন, উত্তর-পূর্ব ভারতের পাশাপাশি ত্রিপুরার পর্যটন শিল্পে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। ডম্বুর জলাশয়ের সৌন্দর্যকে তিনি “এক টুকরো স্বর্গ” বলে অভিহিত করেন। পর্যটনের উন্নয়নের মাধ্যমেই রাজ্যের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।
তিনি জানান, মাতাবাড়ি ট্যুরিজম সার্কিটের আওতায় ডম্বুর, নীরমহল, সিপাহীজলা, মাতাবাড়ি, অমরসাগর, ছবিমুড়া-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাজ্যে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
ডোনার মন্ত্রী আরও বলেন, ত্রিপুরায় আগর শিল্পেরও ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। গতকাল কদমতলায় একটি রাবার প্রসেসিং সেন্টারের শিলান্যাস করা হয়েছে। এই কেন্দ্রটি গড়ে উঠলে রাজ্যের আগর শিল্প দেশ-বিদেশে নতুন পরিচিতি লাভ করবে। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, ডোনার মন্ত্রকের অর্থানুকূল্যে ত্রিপুরায় একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে, যার জন্য মোট প্রায় সাড়ে নয়শো কোটি টাকা ব্যয় করা হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পর্যটন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বলেন, পর্যটন শিল্প রাজ্যের যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে। পর্যটনকে কেন্দ্র করেই রাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি আরও বাড়বে। তিনি পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে সহযোগিতার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বিধায়ক নন্দিতা দেববর্মা রিয়াংও বক্তব্য রাখেন। উল্লেখ্য, শিলান্যাস অনুষ্ঠানের পর ডোনার মন্ত্রী স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান