Friday, October 16, 2026
বাড়ি রাজ্য বিচারক গৌতম সরকারকে তিন দিনের মধ্যে অপসারণ করা এবং বিচারকের হয়ে কোন আইনজীবী লড়াই করবেন না

বিচারক গৌতম সরকারকে তিন দিনের মধ্যে অপসারণ করা এবং বিচারকের হয়ে কোন আইনজীবী লড়াই করবেন না

বিচারক গৌতম সরকারকে তিন দিনের মধ্যে অপসারণ করা এবং বিচারকের হয়ে কোন আইনজীবী লড়াই করবেন না

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৯ জানুয়ারি :জেলা ভোক্তা আদালতের বিচারক গৌতম সরকারের বিরুদ্ধে তোলা গুরুতর অভিযোগ নিয়ে মাথার উপর দিয়ে আর জল গড়াতে দেবে না ত্রিপুরা বার এসোসিয়েশন। এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেন ত্রিপুরা বার এসোসিয়েশন। সোমবার ত্রিপুরা বার এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ভোক্তা আদালতের বিচারক গৌতম সরকারের বেআইনি কার্যকলাপ নিয়ে জেনারেল বডির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

 বৈঠকের পর সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হলেন বরিষ্ঠ আইনজীবী পীযূষ কান্তি বিশ্বাস সহ বার এসোসিয়েশনের অন্যান্যরা। তাদের অভিযোগ, গৌতম সরকারের বেআইনি কার্যকলাপের কারণে গত সতেরো জানুয়ারি ভোক্তা আদালতে বিক্ষোভে শামিল হন একটা বৃহৎ অংশের কর্মীরা। তাদের অভিযোগ গৌতম সরকার প্রতিদিন মদমত্ত অবস্থায় আদালতে আসেন। আদালতে এসে তিনি সহকর্মীদের অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। যার কারণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে আছেন কর্মীরা। মদের গন্ধে তার বিভিন্ন সময় কাজের ব্যাঘাত ঘটেছে তাদের। মহিলা কর্মীরা পর্যন্ত বিচারকের এ ধরনের কার্যকলাপের কারণে কাজ করতে পারছেন না। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বহুবার এই বিষয়ে অবগত করার পরেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

তাই অতিসত্বর ত্রিপুরা বার এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে আগামী তিন দিনের মধ্যে অভিযুক্ত বিচারক গৌতম সরকারের অপসারণের জন্য তারা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মন্ত্রী দারস্থ হবেন। তাদের কাছে রিপোর্ট রয়েছে গৌতম সরকার জুডিশিয়াল অফিসার হিসেবে কাজ করার সময় থেকে এ ধরনের কার্যকলাপ করে আছেন। শুধু তাই নয় আদালতেও তিনি এভাবেই উঠতেন। সোনামুড়ায় এবং আমবাসায় দায়িত্ব পালনের সময় তিনি এ ধরনের কার্যকলাপ সংঘটিত করেছেন। তাঁকে প্রশ্রয় দিয়েছে অনেকে। যারা প্রশ্রয় দিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমন অসংলগ্ন অবস্থায় থেকে তিনি দায়িত্ব পালন করে আবার অবসরে এসেছেন সম্পন্ন হবে আর্থিক সুবিধা নিয়ে। কিন্তু এবার যখন অভিযোগ উঠেছে তখন মাথার উপর দিয়ে জল গড়াতে দেবে না ত্রিপুরা বার এসোসিয়েশন। তাই আজকের মধ্যেই মন্ত্রীর দারস্থ হয়ে দাবি করা হবে তিন দিনের মধ্যে যেন তাকে দায়িত্ব থেকে অপসারণ করা হয়। তাঁকে দিয়ে যেন কোন কাগজ স্বাক্ষর এবং নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা না রাখা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই কাজগুলি চালিয়ে আসছেন গৌতম সরকার। পাশাপাশি তারা ষ্পষ্ট জানিয়ে দেন বিচারক গৌতম সরকারের পক্ষ হয়ে কোন আইনজীবী লড়াই করবেন না। মন্ত্রী যদি কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ না করে তাহলে বৈঠক করে পরবর্তী কর্মসূচি নিতে বাধ্য হবে ত্রিপুরা বার এসোসিয়েশন। তবে বিচারক গৌতম সরকারের বিরুদ্ধে জল এবার বহুদূর পর্যন্ত গড়িয়েছে। রাজ্য সরকার ত্রিপুরা বার এসোসিয়েশনের চাপে পড়ে কি সিদ্ধান্ত সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Abhishek Dey
সাংবাদিক (Journalist)

মন্তব্য সমূহ (0)

  • এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

আপনার মতামত জানান

Captcha