স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক নভেম্বর ৫ : বিরাট কোহলির সেরা ওয়ানডে ইনিংস কোনটি? প্রশ্নটা শুনলে ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে ভেসে উঠতে পারে একের পর এক দুরন্ত সেঞ্চুরির ছবি। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ১৮৩, শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে অপরাজিত ১৩৩ কিংবা দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ১৬০ রানের ইনিংস। কিন্তু ৩৮তম জন্মদিনে নিজের সেরা ইনিংস বাছতে গিয়ে সবাইকে চমকে দিলেন কোহলি । শুনলে অবাক হবেন, তাঁর পছন্দের তালিকায় সেঞ্চুরির কোনও ইনিংস নেই।
বৃহস্পতিবার ৩৮ বছরে পা দিয়েছেন কোহলি। তার আগেই স্টার স্পোর্টসের একটি ভিডিওয় তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ওয়ানডে ক্রিকেটে নিজের সেরা ইনিংস কোনটিকে মনে করেন? ঘটনাচক্রে, তার আগের দিনই নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে মাত্র ৫১ বলে ৭৪ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলেছিলেন ‘কিং’। কিন্তু নিজের সেরা ইনিংস বাছার ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নয়, ফিরে গেলেন পুরনো স্মৃতিতে। শুরুতেই কোহলি বেছে নেন ২০১১ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে তাঁর ৩৫ রানের ইনিংস। সেই ইনিংসের সঙ্গে তুলনায় পিছনে পড়ে যায় ২০১২ সালে হোবার্টে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে অপরাজিত ১৩৩ রান। যে ম্যাচে ৩২১ রানের লক্ষ্য মাত্র ৪০ ওভারে তাড়া করে জিতেছিল ভারত। বাদ পড়ে ২০২৩ সালের বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ৮৫ রানও। সেই ম্যাচে মাত্র ৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল টিম ইন্ডিয়া। সেখান থেকে দলকে জয়ের পথে নিয়ে গিয়েছিলেন কোহলি।
২০১৭ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১২২ রানের ইনিংসও টেক্কা দিতে পারেনি ২০১১ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের ৩৫ রানকে। ৩৫১ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৬৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়েছিল ভারত। সেই পরিস্থিতিতে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন কোহলি। তাঁর বিচারে পিছিয়ে পড়ে ২০১৮ সালে কেপ টাউনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে অপরাজিত ১৬০ রানও। তবে শেষ পর্যন্ত ২০১১ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের ৩৫ রানকেও ছাপিয়ে যায় ২০১৩ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালের ৪৩। বৃষ্টির কারণে ২০ ওভারে নেমে আসা সেই ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৬৬ রানে ৫ উইকেট খুইয়ে প্রবল চাপে পড়ে গিয়েছিল ভারত। সেই বিপর্যয় সামাল দিতে রবীন্দ্র জাদেজার সঙ্গে জুটি বাঁধেন কোহলি। দু’জনে মিলে যোগ করেন ৪৭ রান। কোহলির ৪৩ এবং জাদেজার ৩৩ রানের সুবাদে লড়াইয়ে ফেরে ভারত। শেষ পর্যন্ত ৫ রানে ম্যাচ জিতে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ঘরে তোলে ধোনির দল।
কোহলির পছন্দের তালিকা থেকে বাদ পড়েছে আরও কয়েকটি স্মরণীয় ইনিংস। ২০১২ সালের এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ১৮৩, ২০১৫ সালে চেন্নাইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ১৩৮ এবং সেই বছরই বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ১০৭। বিশেষ করে শেষের ইনিংসটির আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি করা প্রথম ভারতীয় ব্যাটার হয়েছিলেন কোহলি।
তাছাড়াও তাঁর ঝুলিতে রয়েছে একটি ওয়ানডে বিশ্বকাপ, একটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, দু’টি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এবং দু’টি আইপিএল খেতাব। ভারতের সফলতম টেস্ট অধিনায়কও তিনি। ৬৮টি টেস্টে নেতৃত্ব দিয়ে জিতেছেন ৪০টি ম্যাচ। হেরেছেন ১৭টিতে। টেস্টে ১২৩টি ম্যাচে ৯২৩০ রান করেছেন কোহলি। গড় ৪৬.৮৫। রয়েছে ৩০টি সেঞ্চুরি, ৩১টি হাফসেঞ্চুরি। ভারতের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বাধিক রান সংগ্রাহকদের তালিকায় তিনি চতুর্থ। পাশাপাশি ৩১৮ ওয়ানডের ৩০৬টি ইনিংসে কোহলির সংগ্রহ ১৫,১৮৩ রান। গড় ৫৮.৮৪। রয়েছে ৫৫টি সেঞ্চুরি, ৮০টি হাফসেঞ্চুরি। ওয়ানডেতে সর্বাধিক সেঞ্চুরির রেকর্ডও তাঁর দখলে। এত সেঞ্চুরি, এত রেকর্ডের পরেও নিজের সেরা ইনিংস হিসাবে ৪৩ রানকে বেছে নেওয়া কোহলির ক্রিকেটীয় দর্শনেরই যেন পরিচয়। সব ইনিংসের গুরুত্ব রান দিয়ে মাপা যায় না। হয়তো এ কথাই জন্মদিনে বুঝিয়ে দিয়েছেন ‘কিং’ কোহলি।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান