নয়াদিল্লি, ১৫ আগস্ট (হি.স.): স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে দেশের যুবসমাজের জন্য বিনামূল্যে অনলাইন কোচিংয়ের ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তরুণ-তরুণীদের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ও উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতিতে আরও সুযোগ করে দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। দেশের যুবসমাজের ওপরে তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর কথায়, ‘দেশের যুবসমাজ, মা-বোনেরা, কৃষক এবং শ্রমিকদের উপর আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তাঁদের সম্মিলিত শক্তিতেই আমরা ‘বিকশিত ভারত’-এর স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পারব।’
মহিলাদের ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমরা তিন কোটি বোনকে 'লাখপতি দিদি' (যাঁদের বার্ষিক আয় অন্তত এক লক্ষ টাকা) হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলাম এবং আমরা সেই লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছি। এখন আমরা ছয় কোটি 'লাখপতি দিদি' তৈরির লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলেছি। নতুন করে তিন কোটি 'লাখপতি দিদি' তৈরি হওয়া গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারীর শক্তির চালিকাশক্তিতে এক বিশাল পরিবর্তনেরই ইঙ্গিত দেয়। আমার প্রিয় দেশবাসী, আজ বহু নারী পঞ্চায়েত, পৌরসভা ও পৌর নিগমে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন; তাঁরা দেশকে পথ দেখাচ্ছেন এবং বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করছেন। তাঁরা অত্যন্ত দক্ষ নেতৃত্বের পরিচয় দিচ্ছেন—আর এই বিষয়টি মাথায় রেখেই আমরা সংসদে 'নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম' (নারী সংরক্ষণ আইন) পাস করেছি। অথচ, নানা কারণে গত ৪০ বছর ধরে এই স্বপ্নটি বারবার রাজনীতির শিকার হয়েছে।"
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, "লালকেল্লা থেকে আমি ঘোষণা করছি, আগামী দিনগুলিতে আমরা একটি প্রাণবন্ত 'নাগরিক সুরক্ষা' বা 'সিভিল ডিফেন্স' নেটওয়ার্ক গড়ে তুলব। আমরা তাদের আধুনিক ব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত করে তুলব। বর্তমান সময়ের নানা সংকট থেকে নাগরিকদের সুরক্ষায় কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে? আমরা এমন এক বিশাল ও আধুনিক সিভিল ডিফেন্স স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গড়ে তুলতে চলেছি, যারা সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম হবে। এখন দেশ গঠনে আমাদের বোন ও কন্যাদের অবদান আমাদের সকলের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণার উৎস। যুদ্ধবিমান চালনা হোক কিংবা অসামরিক বিমান পরিষেবা—সর্বত্রই আমাদের কন্যারা অগ্রভাগে রয়েছেন।"
লালকেল্লার প্রাকার থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, "বহু বছর ধরে মাওবাদী মানসিকতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা দেশের ক্ষমতার অলিন্দে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিয়েছিল। সরকারি কমিটির উপদেষ্টা হিসেবেও তারা নীতি-নির্ধারণের ওপর প্রভাব বিস্তার করত। আমরা জঙ্গল থেকে সশস্ত্র নকশালদের নির্মূল করতে এবং দেশকে সেই সংকট থেকে মুক্ত করতে সফল হয়েছি। তবে সশস্ত্র নকশালরা বিদায় নিলেও 'দিমাগি নকশাল' বা বুদ্ধিবৃত্তিক নকশালরা রয়ে গেছে এবং এই মানসিকতার ধারকরা সুযোগের অপেক্ষায় আছে। তারা হিংসা ও বিভেদের পথ প্রশস্ত করছে। সমাজকে ভুল পথে চালিত করতে তারা নানা কৌশল অবলম্বন করছে। আমাদের এই 'দিমাগি নকশাল'দের চিহ্নিত করতে হবে। তাদের বিচ্ছিন্ন করতে হবে এবং দেশকে একটি বিকশিত রাষ্ট্রে পরিণত করার মূলধারার প্রচেষ্টার সঙ্গে দেশের যুবসমাজকে যুক্ত করতে হবে।"
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান