স্যন্দন
ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৭ সেপ্টেম্বর: তিব্বতে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (CCP) শাসনের ৭৭
বছর পরও তিব্বতিদের মধ্যে দলটির প্রতি আস্থা তৈরি হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে একটি প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, সাংস্কৃতিক দমন এবং তিব্বতি পরিচয়
মুছে ফেলার বিভিন্ন প্রচেষ্টার কারণে মানুষের মধ্যে বিচ্ছিন্নতার অনুভূতি বেড়েছে।
‘দ্য
তিবেট এক্সপ্রেস’-এ
প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ১৯৫০ সালে CCP ‘মুক্তি’র নামে তিব্বতে প্রবেশের সময় স্বায়ত্তশাসন
ও তিব্বতি ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান দেখানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু প্রতিবেদনের
মতে, এক দশকের মধ্যেই সেই প্রতিশ্রুতিগুলি কার্যত ভেঙে পড়ে।
প্রতিবেদনে
আরও অভিযোগ করা হয়েছে, নজরদারি ক্যামেরা, চেকপয়েন্ট এবং ডিজিটাল পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে
তিব্বতের মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ চালানো হচ্ছে। তিব্বতি ভাষার ব্যবহারও
সীমিত করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে এবং শিশুদের ম্যান্ডারিন ভাষাভিত্তিক
বোর্ডিং স্কুলে পড়াশোনার অভিযোগ তোলা হয়েছে।
মঠগুলিতে
অভিযান, সন্ন্যাসীদের গ্রেপ্তার এবং তিব্বতে দলাই লামার ছবি রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞার
কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
‘দ্য
তিবেট এক্সপ্রেস’-এ
১৪তম দলাই লামার ভাইপো খেদরুব থনডুপের একটি বক্তব্যও প্রকাশিত হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন,
তিব্বতিদের মধ্যে CCP-র প্রতি আস্থা নেই এবং অবাধ গণভোট হলে তিব্বতিরা বিচ্ছিন্নতার
পক্ষে ভোট দিতে পারেন। এটি তাঁর ব্যক্তিগত মতামত হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।
এদিকে তিব্বত
অঞ্চলে সাম্প্রতিক বন্যার পর সংবাদমাধ্যমের ওপর বিধিনিষেধ নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রেস
স্বাধীনতা সংগঠন Reporters Without Borders (RSF) উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
RSF-এর দাবি,
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কোনও স্বাধীন তিব্বতি সংবাদমাধ্যম বা আন্তর্জাতিক সংবাদ
সংস্থাকে অবাধে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। সংগঠনটির মতে, এটি চীনা কর্তৃপক্ষের
দীর্ঘদিনের কঠোর সংবাদ নিয়ন্ত্রণের ধারাবাহিকতা।
RSF-এর অভিযোগ,
বন্যার পর শুধুমাত্র রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যমকে তিব্বতি এলাকায় প্রতিবেদন
করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং তাদের প্রতিবেদনে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে চীনা সরকারের
সাফল্যের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
RSF
Asia-Pacific-এর অ্যাডভোকেসি বিভাগের প্রধান আলেকজান্দ্রা বিলাকোভস্কা অভিযোগ করেন,
তিব্বত কার্যত একটি ‘তথ্যগত ব্ল্যাক হোল’-এ
পরিণত হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, স্বাধীন তিব্বতি বা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে
সেখানে অবাধে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয় না।
তবে তিব্বতের
পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য ও প্রতিবেদনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মতপার্থক্য
রয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ, মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা
নিয়ে চীনা কর্তৃপক্ষ ও তিব্বতি সংগঠনগুলির অবস্থান পরস্পর ভিন্ন।
উল্লেখ্য,
২৬ আগস্ট তিব্বত অঞ্চলে উৎপত্তি হওয়া বন্যার জল নেপালের রাসুওয়া এলাকায় প্রবাহিত
ভোতে কোশি নদী দিয়ে নেমে আসে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এতে নেপালে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
এবং এক হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান