Sunday, August 16, 2026
বাড়ি বিশ্ব সংবাদ সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল বলিভিয়া, অনির্দিষ্টকালের জন্য জরুরি অবস্থা জারি

সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল বলিভিয়া, অনির্দিষ্টকালের জন্য জরুরি অবস্থা জারি

সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল বলিভিয়া, অনির্দিষ্টকালের জন্য জরুরি অবস্থা জারি

লা পাজ, ২০ জুন (হি.স.) : টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ এবং ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক অস্থিরতার জেরে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ বলিভিয়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করেছেন প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ। শনিবার জাতির উদ্দেশে ভাষণে তিনি জানান, দেশের স্বাভাবিক জনজীবন ও জরুরি পরিষেবা সচল রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে শ্রমিক সংগঠন, কৃষক সংগঠন এবং প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসের সমর্থকদের নেতৃত্বে চলা আন্দোলনে প্রেসিডেন্ট পাজের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। মূল্যবৃদ্ধি, অর্থনৈতিক সংকট, জ্বালানির ঘাটতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নেমেছেন।

প্রায় ৫০ দিন ধরে চলা অবরোধের জেরে দেশের বহু এলাকায় খাদ্যসামগ্রী, জ্বালানি ও ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে। বাণিজ্য, পরিবহণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থা কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রেসিডেন্ট পাজ বলেন, সারা দেশে স্বাভাবিক যান চলাচল ও জনজীবন ফিরিয়ে আনতে তিনি ‘স্টেট অব এক্সেপশন’ জারির নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর কথায়, “বলিভিয়ার মানুষ এমন অবরোধের জিম্মি হয়ে থাকতে পারে না, যা তাদের কাজ, পড়াশোনা, চিকিৎসা, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহ এবং বাড়িতে খাদ্য পৌঁছে দেওয়ার পথ বন্ধ করে দেয়।”

তিনি জানান, জরুরি অবস্থা জারির ফলে সেনাবাহিনী ও পুলিশ আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার, যান চলাচল স্বাভাবিক করা এবং জরুরি পরিষেবা সচল রাখতে আরও কার্যকর ভূমিকা নিতে পারবে। তাঁর অভিযোগ, কয়েকটি সংগঠিত গোষ্ঠী হিংসার আশ্রয় নিয়ে দেশকে অচল করে দেওয়ার চেষ্টা করছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার একাধিক দফায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করলেও কোনও ইতিবাচক ফল মেলেনি বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গত মাসেই প্রেসিডেন্ট পাজ একটি আইনে সই করেন, যার মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ সংঘাতের পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীকে হস্তক্ষেপের অনুমতি দেওয়া হয়। যদিও সে সময় তিনি বলেছিলেন, জরুরি অবস্থা জারি হবে একান্তই শেষ বিকল্প হিসেবে।

মাত্র সাত মাস আগে ক্ষমতায় আসা মধ্যপন্থী নেতা পাজ বর্তমানে দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম গভীর অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি। বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি, প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি কমে যাওয়া, চার দশকের সর্বোচ্চ মূল্যবৃদ্ধি এবং জ্বালানি সংকট সরকারের ওপর প্রবল চাপ তৈরি করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, গত মে মাসে রাজকোষের ঘাটতি কমাতে সরকার দীর্ঘদিনের জ্বালানি ভর্তুকি কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতির অবনতি শুরু হয়। এরপরই বিক্ষোভ আরও জোরদার হয়।

প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবির পাশাপাশি আন্দোলনকারীরা মজুরি বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ এবং ডলারের সংকট নিরসনের দাবিও তুলেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট এখন আর শুধু অর্থনৈতিক নয়, তা বৃহত্তর রাজনৈতিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে, যার সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে।

Subrata Debnath
Subrata Debnath https://syandanpatrika.in
সাংবাদিক (Journalist)

মন্তব্য সমূহ (0)

  • এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

আপনার মতামত জানান

Captcha