Monday, August 17, 2026
বাড়ি বিশ্ব সংবাদ ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা, হরমুজ না খুললে ধ্বংসের হুঁশিয়ারি আমেরিকার

ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা, হরমুজ না খুললে ধ্বংসের হুঁশিয়ারি আমেরিকার

ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা, হরমুজ না খুললে ধ্বংসের হুঁশিয়ারি আমেরিকার

তেহরান/ওয়াশিংটন, ৭ এপ্রিল (হি.স.) : ইরান-ইজরায়েল ও আমেরিকা-র মধ্যে চলমান সংঘাতের আবহে মঙ্গলবার পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠল। ইরান স্বীকার করেছে, তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক জ্বালানি প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রে হামলা চালানো হয়েছে। হরমুজ প্রণালী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে না খুললে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোতে বড়সড় সামরিক হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যা ঘিরে গোটা পশ্চিম এশিয়ায় তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থা জানিয়েছে, ইয়াজদ প্রদেশের আরদাকান শহরে অবস্থিত ‘শাহিদ রেজাই নেজাদ’ বা ইয়েলোকেক উৎপাদন কেন্দ্র এই হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এই কেন্দ্রটি ইউরেনিয়াম আকরিককে প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে পারমাণবিক জ্বালানি তৈরির গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত। সংস্থার অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কেন্দ্রে এই হামলা আন্তর্জাতিক নিয়মের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার উপর সরাসরি আঘাত। যদিও হামলার ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও স্পষ্ট নয়।

এদিকে, মঙ্গলবার ট্রাম্প কড়া ভাষায় জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে হরমুজ প্রণালী না খুললে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সেতু ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে। হোয়াইট হাউসও সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছে, আলোচনা ব্যর্থ হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে।

এই হুঁশিয়ারির প্রেক্ষিতে ইরানে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। দেশের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক উপমন্ত্রী আলিরেজা রহিমি নাগরিকদের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলির চারপাশে মানবশৃঙ্খল গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টো (ভারতীয় সময় বিকেল ৪টে) থেকে দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রের সামনে এই কর্মসূচি নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। তরুণ প্রজন্ম, শিল্পী ও ক্রীড়াবিদদের এতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। এই প্রতীকী কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে— ‘উজ্জ্বল ভবিষ্যতের লক্ষ্যে ইরানের তরুণদের মানবশৃঙ্খল’।

ইরান সরকারের মতে, মার্কিন হুঁশিয়ারির প্রেক্ষিতে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিতে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা থেকেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে কিছু দেশকে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিলেও, আমেরিকা ও ইজরায়েলের জাহাজকে সেই সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না বলেও জানা গেছে।

অন্যদিকে, ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী মঙ্গলবার দাবি করেছে, তারা তেহরান-সহ একাধিক কৌশলগত এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। পাল্টা হিসেবে ইরানও খাড়ি অঞ্চলে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আঘাত হেনেছে বলে খবর। ফলে সংঘাত ক্রমশ আরও তীব্র আকার নিচ্ছে।

উল্লেখ্য, ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য ইরানকে মঙ্গলবার রাত ৮টা (মার্কিন সময়) পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত না নিলে আরও বড়সড় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে ওয়াশিংটন।

পশ্চিম এশিয়ার এই ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা আন্তর্জাতিক মহলেও গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তা এখন অনেকটাই নির্ভর করছে আগামী কয়েক ঘণ্টার কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপের উপর।

Subrata Debnath
Subrata Debnath https://syandanpatrika.in
সাংবাদিক (Journalist)

মন্তব্য সমূহ (0)

  • এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

আপনার মতামত জানান

Captcha