স্যন্দন
ডিজিটাল
ডেস্ক, আগরতলা।
৯ অক্টোবর ;শান্তিরবাজার জেলা
হাসপাতালের মৃতদেহ ময়না তদন্তে বিলম্বের অভিযোগ তুলেছেন এক মৃত রোগীর পরিবারের সদস্যরা।
শুক্রবার সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে হাসপাতালের পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন
তারা। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, শান্তিরবাজার মহকুমার বগাফা এলাকার লংকাজয় পাড়ার বাসিন্দা
আব্দুল আলীকে অসুস্থ অবস্থায় শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পরিবারের
অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এরপর রাতেই ময়না তদন্তের জন্য মৃতদেহটি হাসপাতালের মর্গে
রাখা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী, পরদিন সকাল ১০টায় পরিবারের সদস্যরা
হাসপাতালে পৌঁছালেও বিকেল ৩টা পর্যন্ত ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়নি বলে অভিযোগ। ময়না
তদন্তের অপেক্ষায় শান্তিরবাজার থানার পুলিশও হাসপাতালে অপেক্ষা করছিল বলে পরিবারের
দাবি। মৃতের ভাই মস্তান আলীর অভিযোগ, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর কর্তব্যরত এক চিকিৎসক
রোগীকে আগরতলায় রেফার করার পরামর্শ দেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে চিকিৎসকের শিফট পরিবর্তন
হলে অন্য এক চিকিৎসক রোগীকে শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতালেই রেখে চিকিৎসা চালানোর কথা
বলেন। পরিবারের দাবি, ওই চিকিৎসক কয়েকটি পরীক্ষা করিয়ে আনতে বলেন। কিন্তু রাতে হাসপাতালে
প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালের সামনের
একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করাতে যান।
পরীক্ষা করানোর জন্য বাইরে যাওয়ার পর হাসপাতালে ফিরে এসে
তারা রোগীকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। পরিবারের আরও অভিযোগ, রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি
হওয়া সত্ত্বেও সময়মতো অক্সিজেন দেওয়া হয়নি এবং প্রয়োজনের সময় অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবাও
পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি হাসপাতালের মর্গে মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত ফ্রিজিং ব্যবস্থার
কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। তাদের দাবি, মৃতদেহ সংরক্ষণের উপযুক্ত ব্যবস্থা
নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আরও যত্নবান হওয়া প্রয়োজন। মৃতের পরিবারের আরেক আত্মীয়া
সেলিনা খাতুনও হাসপাতালের পরিষেবা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ,
রোগীদের সঙ্গে শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতালে যথাযথ মানবিক আচরণ করা হয় না এবং জরুরি
পরিস্থিতিতে প্রত্যাশিত পরিষেবা পাওয়া যায় না।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান