Friday, October 9, 2026
বাড়ি প্রযুক্তি ইলন মাস্কের Neuralink-কে টেক্কা দিতে ব্রেন-চিপ প্রযুক্তিতে এগোচ্ছে চিন

ইলন মাস্কের Neuralink-কে টেক্কা দিতে ব্রেন-চিপ প্রযুক্তিতে এগোচ্ছে চিন

ইলন মাস্কের Neuralink-কে টেক্কা দিতে ব্রেন-চিপ প্রযুক্তিতে এগোচ্ছে চিন

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৪ সেপ্টেম্বর : ইলন মাস্কের Neuralink-কে টেক্কা দিতে ব্রেন-কম্পিউটার ইন্টারফেস বা BCI প্রযুক্তির উন্নয়নে দ্রুত এগোচ্ছে চিন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বেশ কয়েকটি চীনা ব্রেন-চিপ স্টার্টআপ ইতিমধ্যেই তাদের ডিভাইস বাজারজাত করার জন্য স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রকদের অনুমোদন পেয়েছে।

এমনকি এই ধরনের ডিভাইস বসানোর জন্য প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের খরচ কভার করতে বিমা সংস্থাগুলিও বাণিজ্যিক বিমা চালু করেছে বলে জানা গেছে।

BCI প্রযুক্তি মস্তিষ্ক থেকে পাওয়া সংকেতকে ডিজিটাল বা শারীরিক নির্দেশে রূপান্তর করতে পারে। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা কম্পিউটার, রোবোটিক হাত বা অন্যান্য যন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।

চলতি বছরের শুরুতেই চিন বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য BCI ডিভাইস অনুমোদন করেছে বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। চিনের নতুন পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনাতেও এই প্রযুক্তিকে ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত শিল্প হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সর্বশেষ যে ডিভাইসটি বাজারজাত করার অনুমোদন পেয়েছে সেটি একটি বিশেষ ক্যাপ, যার মধ্যে ইলেকট্রোড রয়েছে। তিয়ানজিনভিত্তিক Tiankai Suishi Intelligent Technology এই ডিভাইসটি তৈরি করেছে। চিকিৎসকরা এটি ব্যবহার করে রোগীদের জ্ঞানীয় কার্যক্ষমতা মূল্যায়ন ও নির্ণয় করতে পারবেন।

অন্যদিকে ইলন মাস্ক তাঁর Neuralink-এর মস্তিষ্কে বসানো ছোট ডিভাইসকে আগে “মাথার খুলির মধ্যে Fitbit”-এর সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। তাঁর দাবি, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি মানুষের মস্তিষ্ক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মধ্যে এক ধরনের সরাসরি সংযোগ তৈরি করতে পারে।

মাস্ক আরও ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, একদিন মানুষের স্মৃতি সংরক্ষণ করে তা অন্য কোনও রোবোটিক শরীর বা ক্লোনের মধ্যে স্থানান্তর করার মতো প্রযুক্তিও সম্ভব হতে পারে।

Neuralink-এর প্রযুক্তি নিয়ে মানুষের আগ্রহও বাড়ছে। গত অক্টোবরে সংস্থাটি জানিয়েছিল, ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ তাদের ব্রেন-চিপ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য রোগী তালিকায় নাম নথিভুক্ত করেছেন।

বিভিন্ন প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, Neuralink-এর পরীক্ষায় অন্তত ২৬ জন ইতিমধ্যে অংশ নিয়েছেন বা তাঁদের মস্তিষ্কে ডিভাইস প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ALS এবং quadriplegia-তে আক্রান্ত রোগীও রয়েছেন।

পরীক্ষায় মস্তিষ্কের সংকেত ব্যবহার করে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণ এবং রোবোটিক হাত নাড়ানোর মতো ক্ষেত্রে সাফল্য পাওয়া গেছে।

তবে চিন এখনও Neuralink-এর সক্ষমতার তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট একটি চীনা সংস্থার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। Beijing-backed স্টার্টআপ NeuCyber Neurotech-এর মতে, তাদের সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তি Neuralink-এর বর্তমান সক্ষমতার তুলনায় প্রায় তিন বছর পিছিয়ে রয়েছে।

Abhishek Dey
সাংবাদিক (Journalist)

মন্তব্য সমূহ (0)

  • এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

আপনার মতামত জানান

Captcha